সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন




তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ ছাড়াই চলে মাসুদের কোয়াইড বাইক

তেল-গ্যাস, বিদ্যুৎ ছাড়াই চলে মাসুদের কোয়াইড বাইক

স্টাফ রিপোর্টার :
তেল-গ্যাস এবং বৈদ্যুতিক চার্জ ছাড়াই চলবে গাড়ি, এটা যেন ভাবনার বাইরে। অথচ সেই অভাবনীয় কাজটি করে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন তেল বা বিদ্যুৎ ছাড়াই চলা মাসুদের কোয়াইড বাইক। অধ্যাবসায় থাকলে এবং নিজের চেষ্টা থাকলে অনেক অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। মাসুদ নিজ প্রচেষ্টায় কোয়াইড বাইক তৈরি করে সেই উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন।

মাসুদ রানা রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের উপশহর লাকিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি রংপুর নেসকো কোম্পানির একজন কর্মচারী। মোটরসাইকেল চালিয়ে নিয়মিত অফিস করতেন মাসুদ। একদিন সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। সেই সময় ঝুঁকিমুক্ত বাইকের কথা ভাবতে থাকেন তিনি।

মাসুদ রানা মনে করেন, অনেক সময় খুব সামান্য কারণে মোটরসাইকেল পিছলে পড়ে যায় এবং মোটরসাইকেল চালক আহত হন। এই সামান্য কারণে যাতে মোটরসাইকেল পড়ে না যায়, সেই চিন্তা থেকে তিনি ইউটিভি ও এটিভির আদলে চার চাকার মোটরসাইকেল আবিষ্কারের চিন্তা করেন। সেই আবিষ্কারের চিন্তার সঙ্গে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত তেল-গ্যাস এবং বিদ্যুৎ এর দাম বাড়ছে। তাই তেল-গ্যাস এবং বিদ্যুৎ ছাড়াই কিভাবে মোটরসাইকেল তৈরি করা যায়, সেই বিষয়ে মনোনিবেশ করেন তিনি। এক সময় সফলতার মুখ দেখেন তিনি। তৈরি করে ফেলেন কোয়াইড বাইক।

কোয়াইড বাইকটি দেখতেও চমৎকার। বাইকটি ধোঁয়াবিহীন শতভাগ পরিবেশবান্ধব। এই বাইকটির চাকা চলার সঙ্গে সঙ্গে ডায়নামার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চার্জ হবে ব্যাটারি। সেই ব্যাটারি রিজার্ভ হিসেবে কাজ করবে। ডায়নামা নষ্ট হলে কিংবা কোনো কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেলে ব্যাটারির মাধ্যমে চলবে বাইকটি। কোনো ধরনের জ্বালানি খরচ ছাড়াই যাওয়া যাবে দেশের যেকোনো প্রান্তে। যার চলার গতি হবে ৬০ কিলোমিটারেরও বেশি। কোয়াইড বাইকটি তৈরিতে মাসুদের খরচ হয়েছে প্রায় ৪ লাখ টাকা। সময় ব্যয় হয়েছে প্রায় দেড় বছর।

এদিকে মাসুদ রানার এমন আবিষ্কার রীতিমতো হৈচৈ ফেলে দিয়েছে। তার আবিষ্কৃত মোটরসাইকেলটি দেখতে প্রতিদিন উৎসুক জনতা ভিড় করেন তার বাসা এবং অফিস প্রাঙ্গণে। মাসুদ রানার এই বাইক আবিষ্কারে খুশি সহকর্মী স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা। বর্তমান প্রজন্মের কাছে বাইকটি খবুই পছন্দের বলে জানান কয়েকজন তরুণ।

বাইকটির উদ্ভাবক মাসুদ রানা বলেন, বাইকটি তৈরিতে অনেক কষ্ট হয়েছে। বাইকটির পার্টস বিভিন্ন লেদের সাহায্যে তৈরি করা হয়েছে। তৈরি করা পার্টস দিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়েছে বাইকটি বাজারজাত করতে পারলে জ্বালানি সংকট অনেকটাই কমে আসবে। তাছাড়া বাইকটি চালকদের জন্য সাশ্রয়ী। এখানে কোনো তেল গ্যাস এবং আলাদা করে বিদ্যুতের মাধ্যমে চার্জ দিতে হয় না। এই বাইক চালানোর সময় ঝুঁকি কম। এ সময় মাসুদ সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিকভাবে এই বাইক উৎপাদনও করার কথা জানান তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com