সোমবার, ২৪ Jun ২০২৪, ০৫:৩৮ পূর্বাহ্ন




অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অনিয়ম বেড়েই চলেছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে

অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অনিয়ম বেড়েই চলেছে বুড়িমারী স্থলবন্দরে

জুনায়েত হাসান রাকিব পাটগ্রাম (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি:
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর ও শুল্ক স্টেশন। এ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিকৃত পণ্যের গাড়িতে সম্প্রতি একের পর এক অবৈধভাবে আনা হচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত কোটি কোটি টাকার পণ্য।
ভারত ও বাংলাদেশের অনন্ত ১০ টি নিরাপত্তা সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ভারতীয় এসব পণ্য এনে রাতারাতি কোটিপতি হয়েছেন অনেকে। এতে জড়িত উভয় দেশের (ভারত-বাংলাদেশ) অসাধু কয়েকজন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও আমদানিকারক এবং রপ্তানিকারকের দৌরাত্ম্যে অনিয়ম নানামুখী সংকটে পড়েছে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশন ও বন্দর। বিপাকে পড়েছেন বৈধ পন্থার ব্যবসায়ীরা।
দেখা গেছে, বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারত ও ভুটান থেকে বেশিভাগ পাথর আমদানি করা হয় । খাদ্যশস্য ও বিভিন্ন প্রকার বীজও আমদানি করা হয়ে থাকে। প্রতিদিন প্রায় চার শ থেকে পাঁচ শ ট্রাক। বা গাড়িতে নানা পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয়। এলসি ( ঋনপত্র ) অনুযায়ী এসব গাড়িতে আনা পর পণ্যের সঠিকতা যাচাই অনুমান বা ট্রাকের উপরের মালমাল দেখে। গুরুত্বপূর্ণ এ শুল্ক স্টেশনে ‘পণ্য স্কানার’ নাই। স্কানার না থাকায় এর সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা পাথর ভেতরে ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকস্, গয়না, চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে আসছে।
ভারতের কলকাতার রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান অভিক অ্যান্ড সন্সের নিকট ১৮ মেট্রিক টন চায়না ক্লে পাউডার আনতে গত ১২ মার্চ ১৮৮১২৪০১০০০১ নম্বর অনুযায়ী এলসি দেন আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ঢাকার মেসার্স নূর এন্টারপ্রাইজ। পণ্যগুলো ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর মাধ্যমে গত ৬ মে ভারতীয় ট্রাকে বুড়িমারীতে আমদানি করা হয়। অভিযোগ উঠেছে চ্যাংড়াবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের সহায়তায় ক্লে পাউডারের ভেতর ভারতীয় গয়না, চিকিৎসামগ্রী এবং অন্যান্য পণ্য পাচার হয়ে আসছে।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিনেও পণ্য না পেয়ে পাটগ্রাম থানা ও গাজিপুরের টঙ্গী থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে গাজিপুর ডিবি পুলিশের একটি দল আসামী বুড়িমারী ইউনিয়নের তুহিনুজ্জামান বাবু ও মনোয়ার হোসেনকে আটক করে এবং হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের দোয়ানী মোড় এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২০ দিন পর ক্লে পাউডার উদ্ধার করে। এ সময় উদ্ধারকৃত পাউডারের ভেতর অবৈধভাবে থেকে আনা ১০ কার্টন সিটি গোল্ডের বিভিন্ন গহণা, ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, কেনুলার কার্টন ৩০ টি ও অন্যান্য পণ্য বের হয়। এসব পণ্যের মূল্য প্রায় কোটি টাকা। একইভাবে গত ২০২৩ সালের ২৭ মার্চ ও এ বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি অবৈধভাবে আনা হয় কয়েক কোটি টাকার ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস্ সামগ্রী। অভিযোগ উঠেছে পণ্য পাচারে চ্যাংড়াবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছাড়াও স্থল শুল্ক স্টেশনের কতিপয় অর্থলোভী কাস্টমস কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে।
একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রতিদিন বেশকিছু গাড়িতে পণ্য আমদানি ও রপ্তানি করা হয়। সকল গাড়ি খালি করে দেখা সম্ভব হয়না। ৬ মে আমদানি করা চায়না ক্লে পাউডারের ভারতীয় গাড়ি আমদানিকারকের প্রতিনিধি, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের উপস্থিতিতে যাচাই করা হয়। পণ্য সঠিক পেয়ে আমদানিকারকের প্রতিনিধি তুহিনুজ্জামান বাবুকে পণ্য গুলো বুঝিয়ে দেওয়া হয়। ওইদিনই বাবু পণ্য গুলো আমদানিকারকের ঢাকার ঠিকানায় বাংলাদেশি গাড়িযোগে পাঠায়। ২০ দিন পর উদ্ধারকৃত পণ্য গুলোতে অবৈধ পণ্য পাওয়ায় এটি ষড়যন্ত্র হতে পারে।
একাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাবি করেন, ভারত-বাংলাদেশের একটি কুচক্রিমহল/কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ব্যবসায়ী প্রতিহিংসায় নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। এতে শত শত আমদানি-রপ্তানিকারকেরা শঙ্কিত।

বুড়িমারী স্থলবন্দর সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ছায়েদুজ্জামান সায়েদ বলেন, একটি চক্র পাথর আমদানির নামে ভারত থেকে শাড়ি ও থ্রিপিস কাপড়, সুগন্ধি ক্যামিক্যাল, কসমেটিক, চিকিৎসা সামগ্রীসহ নানা পণ্য অৗবধভাবে নিয়ে আসছে। এতে এ স্থলবন্দরের প্রকৃত ব্যবসায়ীদের সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।

এ ব্যাপারে বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের (কাস্টমস) সহকারী কমিশনার (এসি) নাজমুল হাসান বলেন, আমাদের কাস্টমসে দায়িত্বরত সবাই কয়েকধাপে পণ্য আমদানি ও রপ্তানির গাড়ি সমূহ চেক করে থাকি। কোনো গাড়ি সন্দেহ হলে খালি করে যাচাই করা হয়। এভাবে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি গাড়ি পুরো খালি করে দেখা হয়। কোনো আমদানিকারক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অবৈধভাবে কোনো মালামাল আনলে ও ধরা পড়লে কাস্টমস আইনে তাঁদের লাইসেন্স বাতিল করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। গাড়িসহ পণ্য স্ক্যান করতে ‘স্ক্যানার’ বসাতে রংপুর কমিশনারের মাধ্যমে এনবিআরে চিঠি ও প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এ প্রযুক্তি এখানে বসানো হলে অনেকে অবৈধভাবে পণ্য আনার সাহস পাবে না। কাজের গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা বাড়বে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com