সোমবার, ২০ মে ২০২৪, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন




ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী পুনরুজ্জীবিত করতে অভিযান

ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী পুনরুজ্জীবিত করতে অভিযান

স্টাফ রিপোর্টার :
মশা উৎপাদনের কারখানা, দীর্ঘদিনের জঞ্জালে ও ভাগাড়ে পরিণত হওয়া ঐতিহ্যবাহী শ্যামাসুন্দরী খাল পরিষ্কার করাসহ দূষণ রোধে জনসচেতনতা ও খাল পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন। সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে এগিয়ে এসেছে স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন বিডি ক্লিন।
শনিবার (১১ মে) বেলা ১১টায় একদিনে একযোগে প্রায় ৫ কিলোমিটার খাল পরিস্কারের লক্ষে নগরীর ক্যান্টনমেন্ট চেকপোষ্ট এলাকায় আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে এ কর্মসূচীর উদ্বোধন হয়।

আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পরপরই একযোগে ১৫টি পয়েন্টে স্বেচ্ছাসেবী যুব সংগঠন বিডি ক্লিনের রংপুর বিভাগের ৮ জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ১ হাজার সদস্য খাল পরিষ্কার কার্যক্রমে নেমে পরেন। এসময় স্বেচ্ছাসেবী সদস্যরা পায়ে গামবুট, মুখে মাস্ক, হাতে গ্লোবস পরে দূর্গন্ধকে উপেক্ষা করে ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলার কাজ শুরু করেন। ধীরে ধীরে তরুণ স্বেচ্ছাসেবীদের হাতের ছোয়ায় পরিস্কার হতে থাকে শ্যামাসুন্দরী খালের পানি। পরিস্কার স্থানে পানির গতি বাড়তে দেখা যায়। যা দেখে অনেক স্বেচ্ছাসেবীর মুখে হাসির ঝলক দেখা যায় সে সময়। আর এই কর্মযজ্ঞ দেখে পুলকিত নগরবাসী। ধন্যবাদ দিতে ভুলেননি তরুণ স্বেচ্ছাসেবী ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে। এসময় মেয়রকে শ্যামা সুন্দরী খালের দখল হয়ে যাওয়া অংশ উদ্ধারে ও পরিছন্নতা ধরে রাখতে কঠোর হওয়ার আহবান জানান সিটি বাসী।
এর আগে, রংপুর স্টেডিয়ামে স্বেচ্ছাসেবীদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। আয়োজনে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে ফাতিমার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান, রংপুর রেঞ্জ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি এসএম রশিদুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহনাজ বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, বিডি ক্লিনের সমন্বয়ক জহুরুল ইসলাম রনি। এ সময় প্রশাসনের ও রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ অন্যান্য কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমার নির্বাচনী ইশতেহারে গ্রিন সিটি এবং ক্লিন সিটি ছিল অন্যতম নির্বাচনী ইস্তেহার। সেই ইস্তেহার অনুযায়ী শ্যামাসুন্দরী খালের পাঁচ কিলোমিটার ময়লাযুক্ত মাটি পুনঃখনন ও অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শ্যামাসুন্দরী খালকে পুনরুজ্জীবিত এবং সৌন্দর্যবর্ধনের যে প্রয়াস চলছে তা বাস্তবায়নে রংপুরের সকল নাগরিকের সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে এই খালকে দখল-দূষণমুক্ত দৃষ্টিনন্দন করতে বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আন্তরিক ভূমিকা দরকার। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী যদি শ্যামাসুন্দরী খাল রক্ষায় সংস্কারসহ আধুনিকায়নে প্রজেক্টের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেন তাহলে এটি সবচেয়ে সুন্দর লেকে পরিণত করা সম্ভব হবে।
এ সময় তিনি খাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পর নতুন করে ময়লা ফেলা এবং পয়ঃনিষ্কাশনের জন্য অবৈধ স্যুয়ারেজ সংযোগ প্রদানকারীদের বিরুদ্ধে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রম চলমান থাকার কথা জানিয়ে বলেন প্রয়োজনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনাসহ অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


বিভাগীয় কমিশনার মো. জাকির হোসেন বলেন, আমাদের সমাজে খেকোদের সংখ্যা বাড়ছে। নদীখেকো, খালখেকো, বালুখেকো, কৃষিজমি খেকোর, ফুটপাত খেকোর ছড়াছড়ি। এসব খেকোদের কারণে আমাদের পরিবেশ প্রকৃতি বসবাসের জন্য আজ হুমকির মুখে। এই খেকোদের কাছ থেকে আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, পরিবেশ রক্ষায় আগে নিজেদের সচেতন হতে হবে। দখলকারী, দূষণকারী, খেকোদের বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। শ্যামাসুন্দরী খালকে একটি আধুনিক লেক পার্ক করা সম্ভব। আর এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর মানুষজন স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ফিরে পাবে। উদ্বোধনী আলোচনা শেষে অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবীদের শপথ বাক্য পাঠ করান রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন।
উল্লেখ্য: রংপুর শহরের পানির প্রবাহ ঠিক রাখতে ১৮৯০ সালে পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান ও ডিমলার রাজা জানকি বল্লভ সেন তার মা শ্যামাসুন্দরীর স্মরণে এই খাল খনন করেছিলেন। সেই শ্যামাসুন্দী খালটি প্রায় ১৫ দশমিক ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং স্থানভেদে ২৩ থেকে ৯০ ফুট প্রশস্ত এই খাল সিটি এলাকার উত্তর পশ্চিমে কেল্লাবন্দস্থ ঘাঘট নদী থেকে শুরু হয়ে নগরীর সব পাড়া-মহল্লার বুক চিরে ধাপ পাশারিপাড়া, কেরানীপাড়া, মুন্সীপাড়া, ইঞ্জিনিয়ারপাড়া, গোমস্তাপাড়া, সেনপাড়া, মুলাটোল, তেঁতুলতলা শাপলা চত্বর, নূরপুর, বৈরাগিপাড়া হয়ে মাহিগঞ্জ সাতমাথা রেলগেট এলাকায় কেডি ক্যানেল স্পর্শ করে খোকসা ঘাঘট নদীতে মিশেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com