রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন




পীরগঞ্জে তিন কৃষকের আধা পাকা ধান রাতের আধারে কাটল দুবৃত্তরা

পীরগঞ্জে তিন কৃষকের আধা পাকা ধান রাতের আধারে কাটল দুবৃত্তরা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের রসুলপুরের হরিপুর মৌজার তিন কৃষকের কাঁচা, আধা পাকা সাড়ে ৮৫ শতক জমির ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী কৃষকরা হলেন মশফিকুর রহমান, মফিজুল ইসলাম ও শাহানারা বেগম। পীরগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের।
অভিযুক্তরা হলো- ১। মোঃ আনছার আলী (৬৫) ২। মোঃ মহাব্বর আলী (৬০) উভয় পিতাঃ মৃতঃ আকবর আলী ৩। মোঃ আনারুল ইসলাম (৩৫) ৪। মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৩৩), উভয় পিতাঃ মোঃ আনছার আলী, ৫। মোঃ নালো মিয়া (৫৮), পিতাঃ মৃতঃ সেকেন্দার আলী, ৬। মোঃ সুরুজ মিয়া (৩৮), ৭। মোঃ পল্লব মিয়া (২৫) উভয় পিতাঃ মোঃ নালো মিয়া ৮। মোঃ বাদল মিয়া (৫৫) পিতাঃ মোঃ বাচ্চু মিয়া ৯। মোঃ রিপন মিয়া (২৫), পিতাঃ মোঃ বাদল মিয়া, ১০। মোছাঃ আছিয়া বেগম (৫০), স্বামীঃ মোঃ মিজানুর রহমান (৩৬), ১৩। মোঃ রেজাউল করিম (৩২), উভয় পিতাঃ মৃতঃ আবেদ আলী, উভয় সাং- মাহমুদপুর, ১৪। মোঃ নজরুল ইসলাম (৬৫), পিতাঃ নজমাল হোসেন, ১৫। মোছাঃ আফরুজা বেগম (৫৫), স্বামীঃ মোঃ নজরুল ইসলাম, উভয় সাং- হরিপুর একই গ্রামের মৃত মোয়াজ্জেমের হোসেনের দুই ছেলে গোলাম মোস্তফা ও গোলাম কিবরিয়া।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত্রি অনুমান ০৪.০০ ঘটিকার সময় উল্লেখিত অভিযুক্তরাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১৫/২০ জন আসামী হাতে লাঠি সোডা, দেশীয় অস্ত্র কাস্তে, দা, ছোরা,ট্রলি নিয়ে বে আইনী জনতায় দলবদ্ধ হইয়া ধান কাটতে বাধা প্রদান করিলে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। আসামীগণ আমাদেরকে মারার জন্য উদ্যত হইলে মুশফিকুর ৯৯৯ কল করিলে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ আসার সংবাদ শুনিয়া আসামীগণ উক্ত কাটা ধান ট্রলি যোগে ১৪নং আসামী নজরুল ইসলামের বাড়ীতে লইয়া যায়। যাহার অনুমান মূল্য ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা। অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় আমাদেরকে বিভিন্ন ধরণের ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করিয়া চলিয়া যায়। পরের দিন সকালে জমিতে গিয়ে দেখে জমির আধা কাঁচা ধান শীষগুলো কেটে নষ্ট করেছে এবং পাকাধান কেটে নিয়ে গেছে।
মফিজুল ইসলাম বলেন, তাদের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আমাদের ক্রয়কৃত জমি মুল মালিক লুৎফর রহমান বিজ্ঞ আদালতে বাটোয়ারা মামলা দায়ের করেন। যাহার বাটোয়ারা মামলা নং- ১৮৩/১৯৮৬, উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত জমির মালিক লুৎফর রহমানের পক্ষে রায় প্রদান করা স্বত্তেও আনছার আলী উক্ত মামলা বিজ্ঞ আদালতে আপিল করিয়া আসছে। যাহা কয়েকবার বিজ্ঞ আদালত লুৎফর রহমান ও তাহার ওয়ারিশের পক্ষে মামলার রায় প্রদান করেন। সর্বশেষে আসামী পক্ষ উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রিভিশন মামলা করে। যাহার মামলা নং- ৩৫৬৩/২০০৪ এবং বিগত ৩০ আগস্ট/২০২২ ইং সালে মহামান্য হাইকোর্ট উক্ত রিভিশন মামলাটি দোতরফা সুত্রে খারিজ করে দেন। সেই মোতাবেক নিম্ন তফশীল বর্ণিত সম্পত্তিতে আমরা চাষাবাদ করিয়া আসছি। পূর্ব শক্রতার জেরে আমার জমির ধান নষ্ট করে ফেলেছে। আমি একজন গরিব কৃষক, অনেক কষ্ট করে এই জমিতে ধান চাষ করেছি। তিনি আরও বলেন, আমি তাদের শক্র হতে পারি, কিন্তু আমার জমির ফসল কি ক্ষতি করেছে তাদের। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
ডীপ ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম বলেন দীর্ঘদিন ধরে এ জমি নিয়ে গোলমাল চলে আসছে,হাইকোর্টে মামলা চলমান। বিগত দিনে গন্যমান্য সকলের উপস্থিতিতে এটার আপোষ নামা করা হয়। আপোষ নামার ভিত্তিতেই জমি চাষাবাদ করে আসছে।
প্রাণ নাথপুর গ্রামের জায়দুল জানান এভাবে আধা কাঁচা ধান রাতের আধারে কাটা অন্যায় এর সুষ্ঠ বিচার হওয়া দরকার।
পীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, জমির ফসল নষ্ট করা চরম অপরাধ। তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত আনছার আলীর পুত্র জানান, এই জমিটি নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে আমাদের সাথে মামলা চলছে তাই তারা নিজেরাই জমির ধান নষ্ট করে আমাকে ফাঁসানো চেষ্টা করছে। রাতে ধান কাটা ঘটনার সাথে কোন ভাবেই তারা সম্পৃক্ত নয় বলেও জানান তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com