মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন




জলঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম

জলঢাকায় প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম

আসাদুজ্জামান স্টালিন, জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
করোনা পরবর্তী প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষকগণ ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম সহ নানা কৌশল গ্রহণ করেছে। এমন কৌশলে একদিকে যেমন হচ্ছে পাঠোন্নতি অপরদিকে বাড়ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
এমন ব্যতিক্রমধর্মী কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায়।
সোমবার সরেজমিন এমন ব্যতিক্রমী কার্যক্রম এবং কৌশল জানতে পৌরসভা এলাকার ১নং ওয়ার্ডের মাইজালীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গেলে কার্যক্রমগুলো চোখে পড়ে। যদিও বাউন্ডারী ওয়াল বিহীন বা অরক্ষিত একটি প্রতিষ্ঠান। তবে সকাল ৯টার পূর্বেই শিক্ষকদের উপস্থিতি। নির্ধারিত স্কুল পোষাকে যথা সময়ে দল বেধে পর্যায়ক্রমে শ্রেণি কক্ষে শিক্ষার্থীদের হাজির হওয়া যেন দেখার মতো। নিজ ক্লাশে সবাই এক মনে শিক্ষকদের কথা শুনছে,কেউ লিখছে,কেউবা বোডে গিয়ে অংকের উত্তর মিলিয়ে পিছিয়ে থাকা সহপাঠিকে সমান কাতারে আনছে। এ যেন অকল্পনীয় শিক্ষার্থীদের উদার আন্তরিকতার প্রকাশ।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, মাইজালী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ১৯৭৩ সালে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩২জন। এর মধ্যে ছেলে ৫৩জন ও মেয়ে ৭৯জন। এখানে প্রধান শিক্ষক সহ ৬জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ১জন প্রশিক্ষণের জন্য বাইরে আছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটিতে দুই শিফটের ক্লাশ চলে।
প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী আল আমিন,নুরে জান্নাত নওরীন ও ইসরাত জাহান আন্নী জানায়, করোনার সময় স্কুল বন্ধ থাকলেও আমাদের পড়ালেখা হতে বিরত থাকার সুযোগ ছিল না। আমাদেরকে ভিডিও মোবাইলের মাধ্যমে পড়ানো হতো। যাদের বাবা-মায়ের ভিডিও মোবাইল আছে সেখানে আমরা একত্রিত হয়ে যার যে ক্লাশ সেই ক্লাশের ভিডিও দেখতাম। সময় এবং সংবাদ স্যারেরা ফোনে অথবা দপ্তরী আসাদুল ভাইয়া আমাদের বাবা-মাকে জানিয়ে দিতেন। এছাড়া ডিশ লাইনে শিক্ষা টিভিতে আমাদের ক্লাশগুলোর ভিডিও দেখানো হতো। সে সবের উপর স্যারেরা খাতা ও প্রশ্ন বাড়িতে দিতো আমরা প্রতি সপ্তাহে পরীক্ষা দিতাম। তাই আমরা এখন ক্লাশে পড়ায় আটকে যাই না।
ওই প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক মঞ্জুরুল আলম,আসাদুজ্জামান,দেলাবর হোসেন জানান, করোনা পরবর্তী ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলমুখী ও পড়ালেখায় আগ্রহ বাড়াতে প্রায়ই বড় স্যারেরা স্কুলে আসে। এমনকি আমাদের ইউএনও স্যারও ২-৩দিন এসে ক্লাশ নিয়েছেন। তাদেরকে স্কুলের পোষাক,খেলাধুলার আয়োজন এমনকি গরীব শিক্ষার্থীদের মাঝে খাতা-কলম দিয়ে তাদের স্কুলমুখী করা হচ্ছে।
মাইজালী পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদুল হক বলেন, আমরা অভিভাবক সভায় যেসব শিক্ষার্থীর বেশি উপস্থিতি দেখি তাদেরকে সহ অভিভাবকদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি। যা শিক্ষার্থীদেরকে পড়ালেখা ও স্কুলমুখী হতে উৎসাহ যোগায়। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করার এসব ব্যতিক্রমী কৌশলের নেপথ্যে যার অপরিসীম ভূমিকা তিনি আমাদের উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান স্যার।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ বলেন, শিক্ষার অগ্রগতির জন্য আমাদের শিক্ষা কমিটির মাসিক মিটিংয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়ে থাকে। তবে অবাক হবার বিষয় ইউএনও স্যারের দেওয়া কিছু কৌশল প্রয়োগে পাঠোন্নতি সহ শিক্ষার্থীদের স্কুলে উপস্থিতির হার বাড়িয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান বলেন, জাতিকে উন্নত করতে শিক্ষার বিকল্প নাই। শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করতে তাদেরকে উৎসাহিত করতে উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। শুধু শিক্ষক কিংবা প্রশাসন নয় শিক্ষিত জাতি গড়তে সমাজে সবার সহযোগিতা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com