মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০৯:০১ পূর্বাহ্ন




নয় বছর ধরে শয্যাশায়ি শমসের আলী, চান সহায়তা

নয় বছর ধরে শয্যাশায়ি শমসের আলী, চান সহায়তা

নুরনবী মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের পশ্চিম ফুলমতি গ্রামের মরহুম ডারকী মামুদের ছেলে শমসের আলী (৩৮)। ঢাকায় নির্মাণ শ্রমিকের (রাজমিস্ত্রী) কাজ করতেন তিনি। স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানকে নিয়ে ছিল তার ঝামেলাহীন একটা সুখের পরিবার। কিন্তু মাঝখানে এসে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে তার অসুস্থতা। নয় বছর আগে হটাৎ স্ট্রোক করার পর দুই হাত ও দুই পা অচল হয়ে যায় এবং কথাও বলতে পারেন না। টানা ছয় বছর চিকিৎসা করার পর সামর্থ্য হারিয়ে ফেলে পরিবার। তারপর পুরোপুরিভাবে বন্ধ হয়ে যায় অসুস্থ শমসেরের চিকিৎসা। হাঁটা চলায় অক্ষম হওয়ায় সেই থেকে দিনরাত বিছানায় শুয়ে কাতরাচ্ছেন। সবসময় শুয়ে থাকার কারণে পিঠে ঘা সৃষ্টি হয়ে পচন ধরার মত অবস্থা।

তার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বিছানার উপর একটা পলিথিন বিছিয়ে তার উপর শুয়ে রাখা হয়েছে অসুস্থ শমসের আলীকে। তার স্ত্রী শিউলি বেগম বাড়ির কাজ করছেন। জানা গেল, দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসার পেছনে অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। সহায় সম্বল বলতে নয় শতাংশ ভিটেমাটি ছাড়া আর কিছুই নাই। একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির অসুস্থতায় দুমড়ে মুচড়ে পড়েছে পরিবারটি। তাদের ঘরে কোনো ছেলে সন্তানও নাই। অভাব অনটনের কারণে একমাত্র মেয়েকেও পড়ালেখা করাতে পারেন নাই। অল্প বয়সেই বিয়ে দিয়েছেন। এখন অসুস্থ স্বামী শমসের আলীকে নিয়ে কোনোরকম দিন পার করছেন স্ত্রী শিউলি বেগম।

শমসের আলীর স্ত্রী শিউলি বেগম বলেন, এই অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করতে হচ্ছে। টাকার অভাবে ভালো চিকিৎসা করাতে পারছি না। বিভিন্নজনের সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে দিন পার করতেছি। এছাড়া বাড়িতে আর কোনো লোক না থাকায় একা অসুস্থ স্বামীকে ঘর থেকে বাইরে বের করা খুবই কষ্টের। মাঝেমধ্যে কষ্ট করেই বাড়ি থেকে আড়াই তিনশো গজ দূরে নদীর পাড়ে নিয়ে যাই গোসলের জন্য। যদি একটা হুইলচেয়ার থাকতো, তাহলে কিছুটা কষ্ট লাঘব হতো। কিন্তু সেটাও তো আমাদের সামর্থ্যের বাইরে। কেউ একটা হুইলচেয়ার দিয়ে সহায়তা করলে খুব উপকৃত হতাম।

প্রতিবেশী রমজান আলী (৪২) বলেন, শমসের ও তার স্ত্রী শিউলি বেগম এখন খুবই কঠিনভাবে জীবন যাপন করছে। একলা একটা নারীর পক্ষে কাউকে ঘর-বাহির করা অনেক কষ্টের। কোন সরকারি বেসরকারি সংস্থা বা কোনো হৃদয়বান দানশীল ব্যক্তি যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে পরিবারটির অনেক উপকার হবে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য সহিদুল ইসলাম জানান, শমসের আলী দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ি। পরিবারটিতে উপার্জন করার মত আর কেউ নাই। আত্মীয়-স্বজনরা একটু সাহায্য সহযোগিতা না করলে অবস্থা আরো কঠিন হয়ে পড়তো। এখনও খুবই কষ্টে দিন যাপন করছে। সমাজের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিবর্গ সহযোগিতার হাত বাড়ালে তারা উপকৃত হবে।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান হাছেন আলী বলেন, শমসের আলীর অসুস্থতার বিষয়টি আমি জানি। ইউনিয়ন পরিষদে কোন সুযোগ সুবিধা আসলে আমরা দেয়ার চেষ্টা করি। তবে সেটা তো চাহিদার তুলনায় অতি ক্ষুদ্র। তার বাড়িতে গিয়ে জেনেছি একটা হুইল চেয়ারের খুবই প্রয়োজন। তাকে হুইল চেয়ার পাইয়ে দিতে চেষ্টা করতেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com