মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ১০:৩১ পূর্বাহ্ন




শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই যুবলীগ সভাপতি সুমনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

শাক দিয়ে মাছ ঢাকতেই যুবলীগ সভাপতি সুমনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

বিক্রম সরকার, চিরিরবন্দর দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় নিজেদের অপকর্ম ঢাকতেই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন দাসের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ করে যাচ্ছে। তারা এককভাবে উপজেলায় টিভি ক্যাবল নেটওয়ার্ক চালানোর জন্য মিথ্যা অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বলে ভুক্তভোগী সুমন দাস অভিযোগ করেছেন। এ যেন শাক দিয়ে মাছ ঢাকাতে চাচ্ছেন স্বার্থান্বেসী মহল।

সোমবার দিনাজপুর প্রেসকাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন চিরিরবন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি সুমন দাস। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিফাত শাহা।

এসময় আজিজুল হক, কবির, আব্দুল মান্নান, মাহফুজ জুয়েল মন্ডল, হাবিবুর রহমান, ফয়জুর রহমান পাভেল উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২০১৬ সালে চিরিরবন্দর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাই। সেই সময় থেকে অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করছি। সম্প্রতি একটি মহল আমার কাজে ঈর্ষানিত হয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা নানানভাবে আমার সুনাম ক্ষুন্ন করছে। আমার ভালো ও উন্নয়নমূলক কাজের স্বীকৃতিস্বরুপ সম্প্রতি আমি দুটি এ্যাওয়ার্ড পেয়েছি। একটি যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের গোল্ড এ্যাওয়ার্ড ও অপরটি ভারতের কলকাতায় মহাত্মাগান্ধি এ্যাওয়ার্ড।

আমার এলাকায় একটি ক্যাবল নেটওয়ার্ক তৈরী করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছি। ইতিমধ্যে তার টানাসহ বেশ কিছু বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আমার ক্যাবল নেটওয়ার্কের সংযোগ প্রদান করেছি। এতে করে স্থানীয় শিশির ক্যাবল নেটওয়ার্ক আমার বিরুদ্ধে নানান ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন। তিনি যেসব অভিযোগ করেছেন তা আদৌ সত্য নয়। আসল কথা শিশির ক্যাবল নেটওয়ার্ক ওই এলাকায় আর কাউকে ব্যবসা করতে দিবেন না। যার কারনে মিথ্যা চাঁদাবাজি দিয়ে জড়িয়ে কাজের উদ্যম কমিয়ে দেয়ার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন।

আমার বিরুদ্ধে ব্যাংক কর্মকর্তা মহির জমিজমার ব্যাপারে যে চাঁদাবাজির মামলাটি দায়ের করেছেন সেটিও মিথ্যা। এটার প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে ৫৯ শতকের একটি প্লটে আমি ও মহির উভয়ই জমি ক্রয় করেছি। মহির জমি ক্রয় করেছে ১২ শতক আর আমি জমি ক্রয় করেছি ৬ শতক। বাকী জমি এখনও ফাঁকা রয়েছে। কিন্তু মহির একাই পুরো প্লটটি ক্রয় করতে চায়। আমি জমি কেনার কারনে সে পুরো প্লটটি ক্রয় করতে পারছে না এটিই তার সমস্যা। ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে চিরিরবন্দর থানা প্রশাসন ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সমাধান হয়েছে। কিন্তু পরে সে উল্টো স্থানীয় প্রশাসন ও সাংবাদিকদের হেয় করে মিথ্যা কথা রটাচ্ছেন।

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, চিরিরবন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধিনে রানীরবন্দর উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে উপ-সহকারী কমিউনিটি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামানকে গত ১৮ জুলাই রাতে মারধোর করা হয়েছে ও চাঁদা চাওয়া হয়েছে। আসলে সেই ঘটনাও সত্য নয়। কিংবা তার পরের যেসব ঘটনা বলেছেন সেগুলোও মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। আসলে এলাকার আইয়ুবুর নামে একজনকে চাকুরী দেয়ার নাম করে আফতাবুজ্জামান কিছু টাকা গ্রহন করেছিল। ওই রাতে টাকা ফেরত দেয়াকে কেন্দ্র করে আইয়ুবুর ও আফতাবুজ্জামানের ঝগড়া বিবাদ লাগে। ওই সময় পুলিশও আসে। পরে পুলিশ ও আইয়ুবুর চলে গেলে আফতাবুজ্জামানকে নিয়ে গল্প করা হচ্ছিল। ওই গল্পর সময়ে কে বা কাহারা ৯৯৯ এ কল দিয়ে জানায় যে সেখানে গন্ডগোল হচ্ছে। এরপরে টহল পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে টহল পুলিশকে আমরা জানাই যে, সেখানে কোন গন্ডগোল হচ্ছে না, বরং কথা বা গল্প করা হচ্ছে। আফতাবুজ্জামান নিজেও পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন। এখানে কেউ কোন উদ্দেশ্যে আফতাবুজ্জামানকে দিয়ে মিথ্যা প্ররোচনায় লিপ্ত রয়েছেন যাতে করে আমি হেয়-প্রতিপন্ন হয় এবং মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়। শুধু তাই নয়, আফতাবুজ্জামান নিজেও মাদকসেবী এবং তিনি মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তার মাদকসেবনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।

আমার সন্দেহ যে এইসব ঘটনার অন্তরালে রয়েছেন মাদক (মদ ও ইয়াবা) ও নারী নিয়ে গ্রেফতার হওয়া জেলা পরিষদের বহিস্কৃত সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এবং রেলওয়ে লাইন চুরির অপরাধে যুবলীগ থেকে বহিস্কৃত সদস্য আরিফ রেজা সবুজ। এইসব ব্যক্তিরা ৫টি মিথ্যা ঘটনাকে ফুলিয়ে-ফাপিয়ে অনেক বড় করছেন। এসব প্রতিটি ঘটনার বিচার পেতে আমরা মামলা দায়ের করেছি।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com