বুধবার, ২৫ মে ২০২২, ১১:১১ অপরাহ্ন




বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দেশি শ্রমিকদের আন্দোলন

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির দেশি শ্রমিকদের আন্দোলন

দিনাজপুর প্রতিনিধি :
দিনাজপুর বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির চিনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়ামের অধীনে কর্মরত দেশি শ্রমিকরা কর্মস্থলে যোগদানসহ করোনাকালীন বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে এক মাস ব্যাপী পরিবার-পরিজন নিয়ে আন্দোলন করছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১১টার দিকে খনি গেট থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল করে শ্রমিকেরা। মিছিলটি কয়লা খনি বাজার প্রদক্ষিণ করে পুনরায় খনি গেটে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবি, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, শ্রমিকের স্ত্রী খুকু মনি, শ্রমিক নেতা জাকির হোসেন, এরশাদ আলী, এহছানুল হক সোহাগ প্রমুখ।

বক্তরা বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী সব সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান আগের মতোই চালু হলেও অজ্ঞাত কারণে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিতে আমাদের যোগদানের কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। একই সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষ ঘোষিত করোনাকালীন বেতনভাতা না পাওয়ায় আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

তারা আরো বলেন, প্রায় দুই বছর আগে করোনার কারণে ১১৪৭ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে বাধ্যতামূলক ছুটি দেওয়া হয়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৪০০ জন শ্রমিককে খনির ভেতরে থেকে কাজ করার শর্তে ফেরত নেয়। বাকি ৭৪৭ জনকে কাজে যোগদানের সুযোগ না দিয়ে বেতন বন্ধ রাখা হয়। ঈদুল ফেতরের সময় খনির অভ্যন্তরে যেসব শ্রমিক অবস্থান করছিলেন তাদেরও ছুটি দেওয়া হয়েছে। ছুটি দেওয়ার সময় শ্রমিকদের প্রতি মাসে ৪৫০০ টাকা করে দেওয়ার কথা ছিল। যা গত ৯ মাস ধরে দেওয়া হচ্ছে না। অবলম্বে আমাদের কাজে যোগদানসহ বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে।

এদিকে গত ১০ মে খনির অভ্যান্তরে মনমেলা সভাকক্ষে আন্দোলনকারী শ্রমিকদের ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে খনি কর্তৃপক্ষ বৈঠকে বসে। সেখানে আন্দোলনকালী শ্রমিকদের মধ্য থেকে ৬০০ জনকে কাজে যোগদানের প্রস্তাব দেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু শ্রমিকরা করোনাকালীন ৯ মাসের বকেয়া বেতনসহ সব শ্রমিককে কাজে যোগদানের দাবি জানিয়ে ঐ বৈঠক প্রত্যাখ্যান করে।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

উল্লেখ্য যে, কর্মস্থলে যোগদান ও বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়ন গত ১১ এপ্রিল খনি কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে। ঐ দিন ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এক মাসের বেশি সময় ধরে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com