শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০১:১৪ পূর্বাহ্ন




ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একদিনে আট প্রসূতি মায়ের প্রসব সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন

ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স একদিনে আট প্রসূতি মায়ের প্রসব সম্পন্ন করে দৃষ্টান্ত স্থাপন

মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
“মা ও শিশুর সুরক্ষা চাই, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল প্রসব করাই ” এই প্রতিপাদ্য নিয়ে নীলফামারীর ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা হাসপাতাল নরমাল ডেলিভারির একমাত্র অবলম্বন। ২৪ ঘন্টায় আটজন প্রসূতি মায়ের নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান প্রসব করে গোটা উপজেলা জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে । নবজাতকেরা সকলেই সুস্থ রয়েছেন, যা এই হাসপাতালে একদিনে সন্তান প্রসবের সর্বোচ্চ রেকর্ড ছাড়িয়েছে। পাশাপাশি সাফল্যের দুয়ার উন্মোচন হয়েছে বলে মনে করছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের দ্বায়িত্বে নিয়োজিত ডাঃ নার্সসহ সকল পেশার কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কয়েকজন চিকিৎসক ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মিডওয়াইফ নার্সদের টিম ওয়ার্ক এবং স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার সহযোগিতায় উন্নত চিকিৎসার সেবা দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এই সংবাদটি গোটা জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে ১১ই জানুয়ারি দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ জাহাঙ্গীর কবির এই অসাধ্য সাফল্যে উন্মোচনের দুয়ার দেখার জন্য ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শনে আসেন। পাশাপাশি তিনি সকল প্রসূতি মায়েরাসহ তাদের নবজাতকের খোঁজ খবর নেন এবং প্রসূতি মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবার উপর বিভিন্ন দিক তুলে ধরে নির্দেশনা মূলক পরামর্শ প্রদান করেন। ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এতবড় সাফল্যের কথা চিন্তা করে তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে সকল নবজাতকের জন্য উপহার হিসেবে পোশাক তুলে দেন আটজন প্রসূতি মায়েদের হাতে ।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা ডাঃ রায়হান বারী”র সার্বিক তত্ত্বাবধান ও ব্যবস্থাপনায় সোমবার ১১ জন প্রসূতি মায়েরা সিজারের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন, হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে দ্বায়িত্বে নিয়োজিত ডাঃ এবং নার্সদের সহযোগিতায় ১১জনের মধ্যে আটজন প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান প্রসব হয়েছে এবং ডেলিভারি ট্রায়ালে রয়েছেন বাকি তিন জন। এই আটজন প্রসূতি মায়েদের মধ্যে ৫ জন প্রসূতি মা জন্ম দিয়েছেন ছেলে সন্তান এবং ৩ জন প্রসূতি মা জন্ম দিয়েছেন মেয়ে সন্তান। এখানে সর্বোচ্চ সেবা পেয়ে প্রসূতি মায়েরা ভিষণ খুশি। ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতি সপ্তাহের ৩ দিন সোমবার, মঙ্গলবার এবং বুধবার সিজার করানো হয়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বে- সরকারি ভাবে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, এসব ক্লিনিকে সেবার পরিবর্তে শুরু হয়েছে প্রসূতি মায়েদের সিজারের নামে এক ধরনের ব্যবসা, ক্লিনিকের হয়ে কাজ করছেন একটি দালালচক্র। তারা একটা সিজারের রোগী ক্লিনিকে ভর্তি করাতে পারলেই দালাল চক্রটি গুনছে ১ থেকে ২ হাজার টাকা। এমন পরিস্থিতিতে সিজারের নামে চলছে দালালদের অর্থ বানিজ্য। বর্তমানে ক্লিনিকে গিয়ে সিজার না করে নরমাল ডেলিভারিতে আস্থা ফিরেছে অনেক প্রসূতি মায়েদের। নরমাল ডেলিভারিতে সন্তান প্রসব করতে প্রসূতি মায়েদের উদ্ধুদ্ধকরণ প্রচারণায় তারা কিছু কৌশল কাজে লাগিয়েছেন যেমন প্রসূতি মায়েদের বিনামূল্যে প্রসূতি কার্ড করে দেওয়া ডেলিভারি না হওয়া পর্যন্ত কাউন্সিলিং এবং ফ্রী চেক-আপ।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রায়হান বারী জানান, আমি আপনাদের উপজেলায় এসেছি সেবার মনোভাব নিয়ে, আমি এলাকার মানুষের জন্য আমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাধ্যমত সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছি বাকিটা বিধাতার উপর। আমাদের এই প্রসূতি মায়েদের জন্য দ্বায়িত্ব প্রাপ্ত ২ জন ডাঃ সার্বক্ষনিক নিয়োজিত রয়েছেন, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মিডওয়াইফ নার্স রয়েছেন ১২ জন। প্রসূতি মায়েদের জন্য রয়েছে আলাদা ওয়ার্ডের ব্যবস্থা এবং মিডওয়াইফ নার্সদের জন্য রয়েছে আলাদা ডিউটি রুম, যাতে করে আমাদের প্রসূতি মায়েরা সার্বক্ষনিক সর্বোচ্চ সেবাটুকু পায়। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মীদের প্রচার প্রচারণায় প্রতিনিয়ত ডেলিভারি মায়েদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ডিসেম্বর মাসে ১শত ৩ টি, জানুয়ারি মাসের আজ অবধি ৩১টি নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়াও আমরা ইতিমধ্যে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার চালু করার মাধ্যমে ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালটি শিশু বান্ধব হাসপাতাল হিসেবে সুনামের সহিত বেশ পরিচিতি লাভ করেছে। সর্বপরি এই হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসবের উদ্দ্যেগটি সবচেয়ে বেশি সফলতা এনে দিয়েছে। পরিশেষে আমি প্রসূতি মায়েদের বলবো আর ক্লিনিকে নয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন নরমাল ও সিজারিয়ানের মাধ্যমে ডেলিভারি সম্পন্ন করা হয়।
ডোমার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ তপন কুমার রায় বলেন, ডোমার উপজেলার পাড়া মহল্লায় বে-সরকারি ভাবে গড়ে উঠেছে ক্লিনিক, সেখানে তো সিজারের মহা উৎসব চলছে নরমাল ডেলিভারি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা আমাদের সেবার মান উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব। ইদানীং ক্রমান্বয়ে প্রসূতি মায়েদের নরমাল ডেলিভারিতে আগ্রহ বাড়ছে কারণ হাসপাতালে নরমাল ডেলিভারি করানো হলে প্রসূতি মায়েদের মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে না পাশাপাশি রোগীর স্বজনদের আলাদা কোন প্রকার খরচ করতে হয়না অপরদিকে প্রসূতি মা ও নবজাতক শিশুদের জন্য রয়েছে পুরস্কারের ব্যবস্থা। পরিশেষে তিনি প্রসূতি মায়েদের ক্লিনিকে না গিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার পরামর্শ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com