শুক্রবার, ২১ জানুয়ারী ২০২২, ০২:৩৯ পূর্বাহ্ন




পীরগাছায় রিয়া মনি হত্যা মামলায় দুই আসামির আমৃত্যু কারাদন্ড

পীরগাছায় রিয়া মনি হত্যা মামলায় দুই আসামির আমৃত্যু কারাদন্ড

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের পীরগাছায় চাঞ্চল্যকর শিশু রিয়া মনি (৭) হত্যার দায়ের দুই আসামীর আমৃত্যু কারাদন্ডের আদেশ দিয়েছেন রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে-২ এর বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান। ওই মামলার আরো ৫ আসামীকে খালাস দেন বিচারক।
মুক্তিপণের দাবিকৃত টাকা না পেয়ে শিশু রিয়া মনিকে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে হত্যা করে মরদেহ ল্যাট্রিনের সেফটি ট্যাংকে লুকিয়ে রাখে আসামীরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।
দÐপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরান গ্রামের আবুল কালামের ছেলে রাসেল মিয়া (২২) এবং ওই গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে সালাউদ্দিন তালুদ (২০)। রায় ঘোষনার সময় আসামী রাসেল মিয়া আদালতে উপস্থিত থাকলেও সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন থেকে পলাতক।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা যায়, পীরগাছা উপজেলার তাম্বুলপুর ইউনিয়নের পরান গ্রামের আব্দুর রহিমের শিশু কন্যা স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেনির ছাত্রী ঘটনার দিন ২০১৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর বিকেলে বাড়ির সামনে রাস্তায় প্রতিবশী শিশুদের সঙ্গে খেলছিল। এসময় সেখান থেকে তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। এরপর রিয়া মনির বাবার কাছে মুঠোফোনে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে দুর্বৃত্তরা।
এদিকে, মেয়েকে কোথাও খুঁজে না পেয়ে প্রথমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও পরবর্তীতে ওই বছরের ৩১ ডিসেম্বর ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন রিয়ার বাবা আব্দুর রহিম।
মামলার সূত্র ধরে ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি রাসেলকে গ্রেফতারসহ তার কাছ থেকে একটি মুঠোফোন উদ্ধার করে পুলিশ। পরে রাসেলের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সালাউদ্দিনকে গ্রেফতারসহ মুক্তিপণ চাওয়ার জন্য ব্যবহৃত মুঠোফোন ও জুসের বোতল উদ্ধার করা হয় এবং ২৬ দিন পর জনৈক রাসেল তালুকদারের বাড়ি সংলগ্ন আব্দুল হক মিস্ত্রীর টয়লেট থেকে রিয়া মনির বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে সালাউদ্দিন তালুদ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে তিনি উল্লেখ করেন, অর্থের লোভে রিয়াকে অপহরণ করে জুসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর শ্বাসরোধে হত্যার করে তার লাশ টয়লেটে গুম করা হয়।
তবে মামলার এজাহারে রাসেল মিয়া ও সালাউদ্দিনের নাম না থাকায় তদন্ত শেষে ২০১৪ সালের ২২ জুন ওই দুজনসহ ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সাইদুর রহমান।
দীর্ঘ ৭ বছরের বেশি সময় ধরে মামলার বিচারকাজ চলাকালে ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে গতকাল মঙ্গলবার এর রায় ঘোষণা করেন বিচারক মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান।
রায়ে আবুল কালাম, তার স্ত্রী জহিরণ বেগম, আবু জাফর জুয়েল, নয়ন মিয়া ও সাগর মিয়ার নামে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় বিচারক তাদের খালাস দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাহাঙ্গীর হোসেন তুহিন বলেন, বাদীর সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এদিকে বাদি আব্দুল রহিম অসুস্থ্য থাকায় তার ছোট ভাই নুর হোসেন রায় সম্পর্কে বলেন, যে বাড়িতে রিয়া মনিকে হত্যা, মরদেহ উদ্ধার ও আলামত উদ্ধার হলো সেই বাড়ির আসামীরা খালাস পেলেন। আমরা ন্যায় বিচার পাইনি। রায়ের কপি পেলে উচ্চ আদালতে যাব।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com