সোমবার, ১৭ মে ২০২১, ০৬:৪৩ অপরাহ্ন




পীরগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি-ঘর পুর্ণঃনিমাণে সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা

পীরগঞ্জে শিলা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি-ঘর পুর্ণঃনিমাণে সরকারি ত্রাণের ঢেউটিন প্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা

পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলায় কাল বৈশাখীর ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি-ঘর পুর্ণঃনির্মানে সরকারি সহয়তা ত্রাণের ঢেউটিন প্রাপ্তিতে অনেকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর মধ্যে টিনের জন্য হাহাকার পরিস্থিতি বিরাজ করলেও গত ১৫ দিনেও তাদের ভাগ্যে মেলেনি ঢেউটিন সহায়তা। ফলে এ পরিবারগুলো চরম উদ্বিগ্ন ও উৎকন্ঠায় রাত্রী যাপন করছেন। তারা আদৌ টিন সহায়তা পাবেন কিনা, এ নিয়েও অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। একাধিক সুত্রে জানা গেছে, গত ২২ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পীরগঞ্জের ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৫টি ইউনিয়নে কালবৈশাখী ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি আঘাত হানে উপজেলার ভেন্ডাবাড়ী, কুমেদপুর, বড়দরগাহ, শানেরহাট ও মিঠিপুর ইউনিয়নের উঠতি ফসলের ব্যাপক ক্ষতির পাশাপাশি প্রায় ২ সহ¯্রাধিক ঘর-বাড়ীর টিনের চালা শিলাবৃষ্টিতে বড় আকারের ফুটো হওয়ায় ঘরগুলো বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার গুলোর বেশীর ভাগ অর্থাভাবে ঢেউটিন ক্রয় করে ঘর গুলোর উপরে টিনের ছাউনি দিতে পারেনি। প্রহর গুনছেন সরকারী সহায়তার। যে কারনে আকাশে মেঘ দেখলেই তাদেরকে দিবারাত্রী দুশ্চিন্তায় ও নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে। ছোট মির্জাপুরের আব্দুল মালেক, মেরাজুল, আজিজুল, মন্ডলাবাড়ীর আব্দুস সালাম, গুর্জিপাড়ার শংকরসহ একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা হলে তারা অভিন্ন প্রতিক্রিয়ায় বলেন- আমাদের ফসল গেল, ঘরের টিন গেল। কোনই সহযোগিতা পাচ্ছি না। ঘরও মেরামত করতে পারছি না । সামনের দিন গুলোতে সংসারই চলবে কি ভাবে। সব সময় এটাই চিন্তা করতে হচ্ছে। তাই তারা এ ব্যাপারে সরকারের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বড়দরগাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল হক মন্ডল এর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন- এ ইউনিয়ন থেকে প্রায় ২ সহ¯্রাধিক ক্ষতিগ্রস্থ ঘরের তালিকা জমা দেয়া হয়েছে। ঢেউটিন বরাদ্ধ না আসায় এখনও টিন বিতরন সম্ভব হয়নি। মিঠিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম ফারুক আহম্মদ বলেন-আমার ইউনিয়নের প্রায় ২ শতাধিক ঘর-বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ এমন পরিবারের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, আমরা এখনও তালিকা পাইনি। তবুও উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছি। টিন বরাদ্দ আসলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে দেয়া হবে। এদিকে কবে চাহিদা পাঠানো হয়েছে ? জানতে চাইলে তিনি তা জানাতে পারেননি। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা টানা চার বছর ধরে এখানে কর্মরত। যে কারনে সব কিছু তার গা সওয়া হয়ে গেছে। বর্তমানে তিনি নিজের আখের গুছিয়ে নিতেই ব্যতিব্যস্ত বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন একাধিক ভুক্তভোগি। রংপুর জেলা ত্রান ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এটিএম আকতারুজ্জামান বলেন-আমরা উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। আশা করি চলতি মাসের মধ্যেই ঢেউটিন পেয়ে গেলে তা ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের মাঝে বিতরন করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com