বৃহস্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:৪৩ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ১ মাস ধরে গণধর্ষণ তরুণীদের অন্তরঙ্গ দৃশ্যের ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল, অবশেষে ধরা স্ত্রীকে খালোতো ভাইয়ের হাতে তুলে দিল স্বামী, রাতভর ধর্ষণ রংপুরের লেখকেরা বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী রংপুর মহানগর আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাচন নিয়ে সকল জল্পনাকল্পনার অবসান পীরগাছায় চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের আনুষ্ঠানিক প্রচারনার উদ্বোধন হিলিতে মাস্ক না পড়ায় পথচারিদেরকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা হিলিতে পাথর বোঝাই ট্রাক ছিনতাই করে পালিয়ে যাওয়ার সময় জনতার হাতে ছিনতাইকারি আটক রংপুর মহানগরীর মিস্ত্রিপাড়ায় রাস্তা ও ড্রেন নির্মাণ কাজ শুরু




তারাগঞ্জে উজ্জ্বল সম্ভাবনা কফি চাষের

তারাগঞ্জে উজ্জ্বল সম্ভাবনা কফি চাষের

এনামুল হক দুখু, তারাগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কফি চাষ। কফি চাষ বিভিন্ন দেশে ব্যাপকভাবে হয়ে থাকলেও আমাদের বাংলাদেশে এর তেমন কোন প্রসার নেই বললে চলে। তবে এর চাষে অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হওয়ায় জেলার তারাগঞ্জ উপজেলায় দিন দিন কফি চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।
শিক্ষিত বেকার যুবক মোখলেছুর ২০১৭ সালে কক্সবাজারে বেড়াতে যান। সেখানে গিয়ে বেসরকারি একটি এগ্রো বেইজ্ড কোম্পানীর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাথে পরিচয় হয়। মোখলেছুর কথা বলেন কফি চাষ নিয়ে সেই কর্মকর্তার সাথে। কর্মকর্তার সাথে কথা বলার পর তিনি বুঝতে পারেন যে কফি চাষের এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে আমাদের দেশে। তারপর কফি চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ে বেকার শিক্ষিত যুবক মোখলেছুরের।
সম্প্রতি কৃষি সচিব মোঃ মেছবাহুল ইসলাম ওই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কৃষি কর্মকর্তারা বলেন,আমাদের দেশে চা পানে আসক্তি থাকলেও এর পূর্বে কফি পানের এতটা চাহিদা ছিলো না। দিন দিন বাংলাদেশে কফির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জেলার তারাগঞ্জ সহ বেশ কয়েকটি উপজেলার মাটি জলবায়ুর কারণে কফি চাষের উপযোগি বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। সে জন্য এ অ লে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়,নাইট্রোজেন,পটাশ,লৌহ,জৈব সমৃদ্ধ উর্বর লালচে দো-আঁশ মাটি কফি চাষের জন্য অতি আদর্শ। কফি চাষের জন্য উষ্ণ (২০-৩০ ডিগ্রি সে. তাপমাত্রা) ও আর্দ্র ও জলবায়ু এবং বার্ষিক ১৫০-২০০ মিলিমিটার বৃষ্টি প্রয়োজন। তবে ফল পাকার সময় শুষ্ক আবহাওয়া প্রয়োজন।
এছাড়াও রোদের প্রখরতা থেকে কফি গাছকে রক্ষার জন্য বাগানের মধ্যে ছায়াদানকারি কলা,একাশিয়া,ইপিল প্রভৃতি গাছ লাগানো প্রয়োজন।
তারাগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাচ্ছুম বলেন, এখানকার মাটি কফি চাষের জন্য উপযুকÍ।এর ফলে এখানে কফি চাষ বেড়ে যাচ্ছে। ন্যায্যমূল্যে বাজারজাত করতে পারলে কফি চাষের প্রতি আগ্রহি হবেন কৃষকেরা।এ উপজেলায় উৎপাদিত কফি দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতা কমাতে বিশেষ ভ’মিকা রাখতে সক্ষম বলে মনে করেন এই কৃষি কর্মকর্তা।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর ২৮ শতক জমিতে ৪৫০ টি কফির গাছ দিয়ে এর চাষাবাদ শুরু করেন রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের শিক্ষিত বেকার যুবক মোখলেছুর। তার কফি চাষ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। তার লাভজনক এ কফি চাষ দেখে ওই এলাকার অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক কফি চাষের দিকে ঝুঁকছে।
কফি চাষি মোখলেছুর বলেন, কৃষি সচিব মেছবাহুল ইসলাম সহ জেলা প্রশাসক আসিব আহসান, উপজেলা চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান লিটন, রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাচ্ছুম আমার এ কফি বাগানটি পরিদর্শন করেছেন ও আমাকে এর চাষাবাদের বিষয়ে বিভিন্ন ধরনের সাহস দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উর্মি তাবাচ্ছুম আমাকে অফিস থেকে বিভিন্ন ধরনের টেকনিক্যালি সহযোগিতা করে যাচ্ছে ও নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছে।
কফি চাষি মোখলেছুর আরও বলেন, আমি আগামি ১ মাসের মধ্যে কফি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করবো। আশা করছি আগামি মাসে যে কফি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে সেখান থেকে আমি প্রথমেই প্রায় ৩ লক্ষ টাকা আয় করতে পারবো। এর আগে আমার কফি বাগানে যে কফির ফুল এসেছিলো তা আমি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করিনি। এবারই প্রথম করবো। সকল প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। অনেকে আমার কাছ থেকে কফির চারা চেয়েছে আমি এখন পর্যন্ত কাউকেই তা দেইনি। তবে কফির ফল সফলভাবে উঠে নেওয়ার পর চাহিদা অনুযায়ী চারা বিক্রি করতে পারবো। কফির চারা বিক্রি করেও মোটা অংকের টাকা আয় করা সম্ভব বলে জানান তিনি। সরকার ও সকলের সহযোগিতা পেলে আমার মত অনেক বেকার শিক্ষিত যুবক চাকরির পিছনে না ছুটে এভাবে কফি চাষের মাধ্যমে উপযুক্ত আয় করেও পরিবারের মধ্যে স্বচ্ছলতা আনা সম্ভব।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY BinduIT.Com