মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৬ পূর্বাহ্ন




সৈয়দপুরে পশু খাদ্যের চরম সংকট এক সপ্তাহেই খড়ের দাম তিনগুন বৃদ্ধি

সৈয়দপুরে পশু খাদ্যের চরম সংকট এক সপ্তাহেই খড়ের দাম তিনগুন বৃদ্ধি

শাহজাহান আলী মনন, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি :
নীলফামারীর সৈয়দপুরে পশুখাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির তৈরী খাদ্যের সাথে সাথে বেড়েছে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গোখাদ্যের। বিশেষ করে খড়ের দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানেই বৃদ্ধি পেয়েছে তিনগুন। গত ৫ দিন যাবত অনবরত বৃষ্টির কারনে বাজারে সরবরাহ কম থাকায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে। ফলে পশু মালিক সাধারণ গৃহস্থসহ খামারীদের ত্রাহি অবস্থা। দরীদ্র ও নিম্নবৃত্তের অনেকেই চড়া দামে খড়, ঘাস, পাতাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য কিনতে না পেয়ে বাধ্য হয়ে পশুই বিক্রি করে দিচ্ছেন নামকা ওয়াস্তে মূল্যে। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যাপকভাবে।

উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের বটতলী ডাঙ্গাপাড়া এলাকার গৃহস্থ আবুল জানান, তার তিনটি গরু ও পাঁচটি ছাগল আছে।নিজস্ব জমিতে আবাদকৃত ধানের যেটুকু খড় ছিল তা দু’মাস আগেই শেষ হয়েছে। বাধ্য হয়ে বাজার থেকে অল্প অল্প করে খড় কিনে পশুগুলোর খাবার যোগান দিচ্ছে। কিন্তু আজ খড় কিনতে এসে না নিয়েই ফিরে যাচ্ছেন। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত সপ্তাহেই যে খড় ৪ শ’ টাকা পন (৮০ আটি) ছিল তা আজ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২ শ’ টাকা দরে। একটু নিম্ন মানেরটার দাম হাজার টাকা পন। প্রায় তিনগুন দাম বেড়েছে।

পৌরসভার নয়াটোলা মহল্লার জাকির হোসেন বলেন, শখের বসে কয়েকটা গরু-ছাগল পালন করছি। কিন্তু দেখছি প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন পশুখাদ্যের দাম বাড়ছে। গমের ভুষি, ছোলার খোসা, মশুর ডালের গুড়া, চালের খুদের দাম গত দুই মাসে প্রায় দেড় থেকে দুই গুন বেড়েছে। বিদেশী ঘাসের আটি (বোঝা) দশ টাকায় স্থির থাকলেও তা এখন পরিমানে কমে গেছে। আগের আটিগুলো একহাতে ধরা যেতনা আর এখন সাইজ এতটাই পাতলা বা চিকন করা হচ্ছে যে দুই আটি একসাথে এক হাতের মুঠিতে ধরতে অসুবিধা হচ্ছেনা।

সৈয়দপুরের স্বনামধন্য ইউসুফ ডেইরী এন্ড গরু মোটাতাজাকরণ ফার্মের মালিক রোটারিয়ান জামিল আশরাফ মিন্টু বলেন, গত কয়েকদিনে খড়ের দাম যেন আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। গত বছর সংগ্রহকৃত খড়ের মজুদ শেষ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছি। এখনতো খড় কেনা নিয়ে হিমশিম পরিস্থিতিতে।

উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম পশুরহাট সৈয়দপুরের উত্তরা আবাসন সংলগ্ন ঢেলাপীরহাটের খড় বিক্রেতা আব্দুল্লা খড়ের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে জানান, মূলতঃ গ্রামাঞ্চলের বড় বড় গৃহস্থরা খড়ের গোলা তৈরী করে সংরক্ষন করে।আর ব্যবসায়ীরা মৌসুম সময়ে খড় সংগ্রহ করে মজুদ গড়ে তোলে। এবার পর পর কয়েক দফায় বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারনে জেলার সকল গৃহস্থরই গোলার খড় নষ্ট হয়েছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ব্যাবসায়ীদের যেটুকু আছে তাও অধিক মুনাফার আশায় প্রয়োজনীয় পরিমানে বাজারে না ছেড়ে আটকে রাখায় সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চাহিদা থাকায় হু হু করে দাম বাড়ছে। যা এখন সাধারণের নাগালের বাইরে। এভাবে বৃষ্টি চলতে থাকলে দাম আরও বাড়বে এবং পশুখাদ্য নিয়ে কঠিন পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com