শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৪৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম




কুড়িগ্রামে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

কুড়িগ্রামে চাঞ্চল্যকর স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার ৩ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

কুড়িগ্রাম জেলা

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ডাকাতির উদ্দেশ্যে মধ্যরাতে বাড়িতে ঢুকে নবম শ্রেণির ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনায় মূল ৩ আসামিকেই গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। শনিবার রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় চিহ্নিত আসামিরা মেয়েটিকে ছুরিকাঘাত করে পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে র্ধষণ করে। এসময় তার ছোট বোন পালিয়ে গিয়ে রক্ষা পায়। পরে দুর্বৃত্তরা ওই ছাত্রীর বাবা-মাকে ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করে। এসময় তারা বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
রবিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মহিবুল ইসলাম খান জেলা পুলিশ হলরুমে সাংবাদিকদের সাথে এক প্রেস কনফারেন্সে চাঞ্চল্যকর এ ঘটনার বর্ণনা দেন। এর আগে সকালে রাজারহাট থানা পুলিশ আসামিদের কুড়িগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে। সেখানে শুনানি শেষে পুলিশের পক্ষ থেকে রিমান্ড চাওয়া হলে বিজ্ঞ বিচারক ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন, রাজারহাট উপজেলার ছিনাই গ্রামের উমর আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (২৫), লালমনিরহাট জেলার মহেন্দ্রনগর এলাকার করিমের ছেলে আব্দুল মালেক (২৭) ও রাজারহাটের পীরমামুদ গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে আবুল কালাম আজাদ (৩২)।
পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার পরপরই র‌্যাব, সিআইডি, পিবিআই এবং পুলিশ পৃথক পৃথকভাবে তদন্ত শুরু করে। কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মাহমুদ হাসানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করে। এই টিম ব্যাপক অনুসন্ধান এবং তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে প্রথম ক্লু হাতে পায়। তখন তাদের অবস্থান ছিল ঢাকায়। সেখানে তারা রিকশা চালানোর কাজ করে। পুলিশ ঢাকায় গিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হতে না হতেই আসামি আব্দুস সালাম ফিরে আসে কুড়িগ্রামে। সালামের সাথে অপর আসামি আব্দুল মালেকের স্ত্রীর পরকীয়ার সূত্র ধরে তাকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে পুলিশের ফাঁদে আটকে পড়ে সালাম। এরপর আব্দুল মালেক এবং সর্বশেষ গ্রেফতার হয় আবুল কালাম আজাদ। আসামি আব্দুল মালেককে লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর এলাকা থেকে, আব্দুস সালামকে কুড়িগ্রামের চর ভুরুঙ্গামারী এলাকা থেকে এবং আবুল কালাম আজাদকে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের হাজীরমোড় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও জানান, আসামি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে রাজারহাট, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও রংপুরে ৫টি চুরির মামলা রয়েছে। এছাড়াও আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট, রাজারহাট ও কুড়িগ্রামে একটি করে ৩টি মামলা রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ডাকাতির উদ্দেশ্যে গিয়ে ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
উল্লেখ্য, গত ২৭ জুলাই গভীর রাতে রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের নবম শ্রেণির ছাত্রীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাত করে আহত করে এবং বাড়ির পাশে একটি জঙ্গলে ধর্ষণ করে একদল দুর্বৃত্ত। এছাড়াও দুর্বৃত্তদের হামলায় ওই ছাত্রীর বাবা ও গুরুতর আহত হন। এসময় বাড়িতে থাকা স্বর্ণালংকার ও এক লাখ ৬০ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায় তারা। আহত ছাত্রী ও তার মা-বাবা এখনো কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় পরদিন অজ্ঞাত পরিচয় ৪ জনকে আসামি করে রাজারহাট থানায় মামলা দায়ের করা হয়। আসামি গ্রেফতারের দাবিতে দু’দফা মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com