বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২০, ০১:০০ অপরাহ্ন




তিস্তার ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছেন শংকরদহ এলাকার শত শত পরিবার

তিস্তার ভাঙ্গনে ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছেন শংকরদহ এলাকার শত শত পরিবার

গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি :
বন্যার ধকল কাটিয়ে উঠলেও তিস্তা নদীর ভাঙ্গনে জমিজমা, ভিটেমাটি হারিয়ে পথে বসেছেন উপজেলার লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ এলাকার শত শত পরিবার। প্রতিবছর বন্যার পর লক্ষীটারী ইউনিয়নে ভাঙ্গন দেখা দিলেও সরকারের পক্ষ থেকে কোন কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ভাঙ্গন শুরু হলে পানিউন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে সামান্য কিছু বালির বস্তা ফেলে ভাঙ্গন রোধের চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই করে না পানি উন্নয়ন বোর্ড।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর এলাকায় অপরিকল্পিত ভাবে দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ করার কারণে তিস্তায় নতুন একটি চ্যানেল তৈরী হয়েছে। বর্ষা আসলে এই চ্যানেল দিয়ে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। পানি কমার সাথে সাথে এই এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। আমরা সরকারকে বিষয়টি জানিয়েছি। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ এলাকার আখতারুল ও এজাজুল দুই ভাই। তাদের দুই ভাইয়ের প্রায় ২০ বিঘা জমি ছিল। এই জমির ফসল দিয়ে ভালো ভাবেই চলছিল তাদের সংসার। গত বছরর ঈদে দুই ভাই মিলে গরুও কোরবানী দিয়েছিল। এবার তিস্তার ভাঙ্গনে তাদের জমি বাড়ি ঘর নদীর গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। জায়গাজমি ঘরবাড়ি হারিয়ে আশ্রয় নিয়েছে গঙ্গাচড়া সদর ইউনিয়নের বোল্লার পাড় সংলগ্ন বাঁধের ধারে। এক কেজি গরুর মাংস কিনে খাবেন সেই টাকাও তাদের কাছে নাই।
আখতারুল ও এজাজুল জানায়, এবার তাদের কোরবানীর ঈদ কিভাবে কাটবে ছেলে মেয়েদের নিয়ে কি খাবে তা আল্লাহ ছাড়া কেউ বলতে পারে না। তারা আরও বলেন, সরকারী সাহায্য হিসেবে ১০ কেজি চাউল ছাড়া আর কোন সাহায্য তাদের ভাগ্যে জোটে নাই।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদি হাসান জানা, লক্ষীটারী ইউনিয়নের যে অংশ দিয়ে নতুন করে তিস্তা নদীর চ্যানেল সৃষ্টি হয়েছে তা ২৫ বছর আগে ছিল। নদীর গতি পরিবর্তন হওয়ার কারণে ওই এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। আমরা স্থায়ী সমাধানের জন্য নদী এক্সপার্টদের সহযোগীতা নিয়ে টেকসই একটি বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করবো। ভাঙ্গন রোধে স্থানীয়দের সাথে নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com