মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২০, ০৭:০৭ পূর্বাহ্ন




রংপুরে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার দুর্নীতির মামলা কাঁধে, তবুও থেমে নেই দুর্নীতির মাত্রা!

রংপুরে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার দুর্নীতির মামলা কাঁধে, তবুও থেমে নেই দুর্নীতির মাত্রা!

স্টাফ রিপোর্টার :
দুর্নীতির মামলা কাঁধে, তবুও থেমে নেই পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা’র অনিয়ম, দুর্নীতি’র মাত্রা। কর্তার বিরুদ্ধে উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ৮ কর্মকর্তা। রংপুরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা’র বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ তুলে প্রকল্পের ৮ কর্মকর্তা চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে। পাট উন্নয়ন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে প্রকল্প পরিচালক বরাবর পাট অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তার পত্র দেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, পাট অধিদপ্তরের আওতাধিন উন্নত প্রযুক্তি নির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের রংপুর জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মাহবুব আলম বিশ^াস কুড়িগ্রাম থেকে গত ১৮ ফেব্রæয়ারি তিনি রংপুরে যোগদান করেন। এরপর শুরু হয় প্রকল্পে নানান ধরনের অনিয়ম আর অব্যবস্থাপনা। এরমধ্যে ওই কর্মকর্তা প্রকল্পের নাম সর্বস্ব সাইনবোর্ড অফিসের প্রধান ফটক থেকে সরিয়ে শুধু পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা’র কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড টাঙিয়েছেন। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত যা কিছু আসবে শুধু নিজেই খরচ করবেন। বীজ পরিবহনের টাকা এসএজেডিও দের টাকা না দেয়া, রাসায়নিক সার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ট্রেজারি খরচের জন্য প্রত্যেক এসএজেডিও’র কাছে ৫ হাজার করে টাকা গ্রহণ ছাড়াও ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরের রাসায়নিক সার ক্রয় বাবদ ৪লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করেছেন। প্রকল্পের নির্দেশমতে ৪ লাখ ১৪ হাজার টাকা ব্যয় করেন। অবশিষ্ট ৪৬ হাজার টাকা ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা করবেন মর্মে এসএজেডিওদের সাব জানান। কিন্তু এসএজেডিওরা চালানের কপি দেখতে চাইলে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদেরকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধমকি প্রদান করে। তার বিরুদ্ধে নানান ক্ষেত্রে দুর্নীতি, অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ ওঠে।
একই প্রকল্পের রংপুর জেলা সদরের উপ-সহকারি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তাসহ জেলার অপর ৭ উপজেলার কর্মকর্তারা পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রকল্প পরিচালককে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এদিকে, একেএম মাহবুব আলম বিশ^াসের বিরুদ্ধে ৮কর্মকর্তার আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সওদাগর মুস্তাফিজুর রহমান গত ২২ জুন স্বাক্ষরিত একটি পত্র প্রকল্প পরিচালককে দেয়। এতে অভিযোগ সরেজমিনে সত্যতা যাচাই এবং দায়দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক ৭ কার্যদিবসের মধ্যে মতামত ও প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইপত্রে সারাদেশে প্রকল্পের চলমান বিনামূল্যে সার বিতরণ কার্যক্রম যাতে কোন অনিয়ম, ত্রæটি-বিচূতি না হয়, সে বিষয়ে তদারকি ও মনিটরিং করতে বলা হয়েছে।
অপরদিকে রংপুরে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে গঙ্গাচড়ার সাবেক উপজেলা পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা এ কে এম মাহবুব আলম বিশ্বাসের বিরুদ্ধে ১৫ লাখ টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে গত বছরের ১৬ জানুয়ারি কোতয়ালী ও গঙ্গাচড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অডিটর ও পাট কর্মকর্তাসহ চার জনের বিরুদ্ধে রংপুর মেটোপলিটন কোতয়ালি থানায় দুটি এবং গঙ্গাচড়া থানায় একটি মামলা করেছেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, গত বছরে রংপুর বিভাগীয় কন্ট্রোলার অব একাউন্টেস কার্যালয়ে দায়িত্বরত ছিলেন অডিটর আশরাফুল ইসলাম। তখন একটি চেক জালিয়াাতির ঘটনায় অডিটর আশরাফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম ও ব্যবসায়ী রেজ্জাক খানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধারায় মামলা করা হয়েছে।
এদিকে, উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ দায়েরের কথা স্বীকার করে উপ-সহকারি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, জেডিও সাহেব আমাদের ন্যায্য প্রাপ্য দেয়া থেকে থেকে বঞ্ছিত করে আসছেন। আমরা এসবের প্রতিবাদ করায় জেডিও সাহেব আমাদের সবাইকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। সেজন্য তার বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ করেছি পিডি স্যার বরাবর। তদন্ত চলাকালে সত্য ঘটনা যাতে আমরা তুলে না ধরি সেজন্যেই বিভিন্ন লোক মারধৎ আমাকেসহ অন্যদের নানা ধরনের কথা বলাচ্ছেন তিনি। তার কথায় রাজী না হলে আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি হবে। আমরা এখন আমাদের জীবন নিয়েও শঙ্কিত। তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ারও দাবি করেন তিনি।
অপরদিকে, দুর্নীতির মামলা থাকতে পারে এমন মন্তব্য করে রংপুরের পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা একেএম মাহবুব আলম বিশ^াস মোবাইল ফোনে জানান, আমি রাজস্ব খাতের একজন কর্মকর্তা। আমি প্রকল্পের অতিরিক্ত দায়িদ্ব পালন করে আসছি। প্রকল্পের নাম ব্যবহার করাটা আমার পক্ষে সমীচিন নয়। প্রকল্পের নামের পরিবর্তে পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা’র কার্যালয় লেখা সাইনবোর্ড অফিসে লাগানো হয়েছে। উপ সহকারি পাট উন্নয়ন কর্মকর্তারা প্রকল্পের সাইনবোর্ড ব্যবহার করতে পারে। আমি তো এটা করতে পারি না। তিনি আরো বলেন, তারা নিজেদের (এসএজেডিও) বিভিন্ন অনিয়ম ঢাকতে আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ ব্যাপারে পাট অধিদপ্তরের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমার করার কিছু নেই। তবে, উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com