মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২০, ১১:০২ পূর্বাহ্ন




করোনাকালে লেখিকাদের কেমন কাটছে দিন

করোনাকালে লেখিকাদের কেমন কাটছে দিন

রেজাউল করিম জীবন
বিশ্বময় মহামারি করোনা ভাইরাসের দৌড়াত্বের এই সময়ে ছুটন্ত চলা জীবনে হঠাৎ ছন্দপতন। বিশাল পৃথিবীতে এক বাড়ির কয়েকটা ঘর ও উঠোন নিরাপদ। হাতে প্রচুর সময়। অবসর সময় আর সময়। অবসর সময়ে অন্যান্যদের মতো লেখিকাদের কেমন কাটছে সময়, সেই জানার আগ্রহ থেকে লেখিকাদের দিনালিপি নিয়ে কথা বলা। লেখিকারাই নিজেরাই বলেছেন নিজেদের বর্তমান সময়ে কেমন কাটছে। হুবহু তুলে ধরা হলো নিচে

কবি ও সংগঠক হেলেন আরা সিডনীঃ
আপাতত:দৃষ্টিতে গৃহবন্দী জীবন মনে হলেও বলবো আপন অস্তিত্বের – পরিবার – সমাজ তথা দেশের মঙ্গল ও কল্যানের জন্যই আমরা নিজেরাই এই জীবনকে বেছে নিয়েছি কিংবা পরিবেশ – পরিস্থিতি নিতে বাধ্য করেছে কারন সারা বিশ্ব আজ আতংকগ্রস্ত মহামারী করোনাকে নিয়ে। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সজ্জিত যোদ্ধারা আজ থমকে দাঁড়িয়ে আছে, শক্তিশালী রাষ্ট্রগুলো হিমশিম খেয়ে গেছে, লাশের মিছিলে দাঁড়িয়ে আত্মহারা তখন আমাদের এই ছোট্ট গরীব বাংলাদেশে এই সতর্কতা আর সচেতনতার জন্যই আমরা ঘরে ঢুকে পরেছি, তাই ঘরবন্দী।
কিন্তু আমরা কি অভ্যস্ত এই অবরুদ্ধ জীবনে ??? কখনোই নাৃ প্রয়োজনে – অপ্রয়োজনে হলেও আমরা ঘরের বাহিরে ঢু দেই। বন্ধু আড্ডায় জমে উঠি। যারা সাংস্কৃতিমনা তারা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সর্বক্ষণ ব্যস্ত থাকে। অথচ আজ কোথায় সেই ব্যস্ততা – কোথায় জীবন চান্চল্যতার ছুটোছুটি।

আসলে মনে হয় রাব্বুল আলামিন আমাদের জীবনের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়ে বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করছেন জীবনের একাকীত্ব – সঙ্গহীনতা কেমন??? তাই তো কেমন কাটছে সকলের এই সময়গুলো??
আমি কেমন আছিৃ কি ভাবে কাটছে আমার সময় Í বলতেই হয়, আলহামদুলিল্লাহ্ মহান করুনাময় এই একাকী নিবাসে মনের শক্তিতে আজ পর্যন্ত অটুট রেখেছে। নামাজ – কোরান পাঠ যদিও আমার নিয়মিত ছিল মনে হয় এখন আরো বেশি সময় দিয়ে বিরাট এক মানসিক প্রশান্তি খুঁজে পাই। আগে বাহিরে ছুটোছুটিতে হয়তো এতোটা হয়ে উঠতো না।এটা আমার বড় প্রাপ্তি। মাঝে নাতনী ছিল কিছুদিন ওকে নিয়ে হাসি – গল্প – খেলা ওর পড়ালিখার যতœ নেওয়াতে কিছুটা সময় কেটে যেতো, বর্তমানে সে আর থাকে না, ঘরবন্দী ও আর আমি তাই হয়তো একটা ভয় ওর মনে আসাতে কান্নাকাটি করতো তাই ওর বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাই আরো যেনো সময় হাতে অনেক বেশি। রোজা মাস দয়াময়ের দয়ায় রোজা থাকছি। বিভিন্ন রকম ধর্মীয় বইগুলো পড়ার সুযোগ হয়ে উঠছে। এছাড়া ঢাকা বই মেলায় বেশ কিছু বই কিনে ছিলাম সেগুলো পড়ছি। গান শোনা আমার বিশেষ একটি নেশা তাই ইউটিউবে পুরানো গানগুলো শুনি। যেহেতু বাসায় ওয়াইফাই ডাটা কিনে হিসেবের ব্যাপারটি নেই তাই প্রতিদিনই ঢাকা – জয়পুরহাট – অষ্ট্রেলিয়ায় ভাই – বোনদের সাথে ভিডিওতে দেখা ও কথা হয় । শ্বশুর বাড়ীর ভাই – ভাবীদের খোঁজ নেওয়াতেও কৃপনতা নেই। আর তা সম্ভব হয় বড় ননদের ছেলে ফরহাদ এবং ছোট দেবরের বউ সেতু- র মাধ্যমে। এদিক থেকে মনটা ভালো থাকলেও সব সময় মনটা একটা কষ্টের বিষন্নতায় কাটে। এক ছেলে ঠাঁকুরগাঁয়ে কাজে গিয়ে হঠাৎ বাস বন্ধ হয়ে যাওয়াতে এক আত্মীয়ের বাসায় আটকে গেছে অনিশ্চিত সময় ধরে। সব সময় দু:শ্চিন্তা কাজ করে মনটা খারাপ হয় তখন নামাজে বসে আল্লাহর কাছে দয়া ভিক্ষা চাওয়া ছাড়া আর কিছু থাকে না।

তারপরেও বন্ধু সার্কেল, ফেসবুক বন্ধু, ছোটভাইদের সঙ্গে কথা বলি, কিছুক্ষণ আড্ডা হয় ম্যাসেন্জারে। মন – বর্তমান অবস্হা – একাকীত্ব সব মিলায়ে যখন অনুভূতিতে টান পরে তখন কিছু লিখি ফেসবুকের দেয়ালে। তবে কষ্ট অনুভব করি সরকারের যথাসাধ্য চেষ্টা / সকাল – বিকাল প্রচারনা চলছে ঘরে থাকা – সুস্থ থাকার – পরিবারের সকলকে ভালো রাখার জন্য তখন কিছু অবাধ্য মানুষেরা অযথা পথে ঘুরছে, এই বাড়ী – ঐ বাড়ী যাচ্ছে তখন খারাপ লাগে। হ্যা আমিও প্রয়োজনে বের হই পাশের দোকানে কিন্তু সেটা গোসলের আগে, মাস্ক – গ্লোবস এবং মাথা ঢেকে যাই আর এসেই ওয়াসরুমে। মহান আল্লাহর হাতেই সবকিছু, তিনি জীবনদাতা, মরণদাতা কিন্তু তিনি সাবধানেও থাকতে বলেছেন, পরিস্কার – পরিচ্ছন্ন থাকতে বলেছেন। আমার আশে পাশে দেখা মানুষ সেটাও মানতে রাজী নয়। আমি অনেককে মাক্স – গ্লোবস দিয়েছি সেটাও পরে না। মানুষ মরণশীল…মরতে হবেই কিন্তু আল্লাহর কাছে সকলের কামনা থাকে সকলের মাঝে থেকেই যেনো শেষ বিদায়টা জীবনে আসে। শত দু:খ – কষ্ট, অভাব – অনটনেও মানুষ কিন্তু এই পৃথিবীর বুকে বাঁচতে চায় আর এই চাওয়াটা চিরন্তন। জানি না কেনো প্রতিটি মুহুর্ত আমার সকল শ্রেণীর মানুষের অবস্হার কথা, কেমন আছে তারা – আজ এগুলোই মনে হয় তাই সুযোগ পেলে আমার পরিচিত রাজমিস্ত্রী, পানিমিস্ত্রী, ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, কিছু লেবার, বাসায় কাজ করেছিল অনেক বছর আগে। তাদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলে ভালো – মন্দ শুনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে যখন কেউ এসে আমার দরজায় আঘাত করে কিংবা কারো কিছু শুনি তখন বুকের নিগূঢ় তলদেশ থেকে একটি দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসে, মনে মনে বলি – স্বাদ আছে যতো মোর, সাধ্য নেই ততো। এভাবেই পরম করুনাময় দিন পার করছেন জানি না আগামীতে কি হবে। তাই আমার এই লেখনীর মাধ্যমে বড় – ছোট সকলের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।

এভাবে নিজেকে ঘরবন্দী রেখেও কর্মহীন বেকার অসহায় মানুষের পাশে একটু হলেও সকলের সহযোগিতায় মানবিক সংগঠন “ পাশে আছি “ মোবাইলে ভিডিও কনফারেন্স করে করে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মনোযোগ রেখে চলেছে। দুই দফায় “ পাশে আছি “ কাজ করেছে ইনশাআল্লাহ তৃতীয় দফায় পরম করুনাময়ের দয়ায় কাজ করতে যাবে খুব শীঘ্রই। এই ব্যাপারগুলো নিয়েও একটু ব্যস্ততা থাকে সকলের সঙ্গে সকলে সবসময় কন্টাক্ট থাকতে, এই আর কি।

দয়াময় সকলকে রক্ষা করুন এবং সুস্হ ও নিরাপদে রাখুন। লিখা শেষে একবুক আশা নিয়ে বলছি – ইনশাআল্লাহ আবার সুদিন আসবে, এই মরণব্যাধী দয়াময়ের দয়ায় বিদায় নিলে আমরা সকলে এক হয়ে সবুজ মাঠে ভোরের আলোতে এক সঙ্গে হাঁটবো, দেখা হবে – কথা হবে আবারো ৃ..নিজে ভালো থাকুন, অন্যকেও ভালো রাখার চেষ্টা করুন, সুস্থ থাকার উদ্দেশ্যে দূরত্ব বজায় রাখতে আপাতত: কিছুটা স্বার্থপর হোন। সকলের জন্য শুভকামনা

কবি ও গল্পকার কামরুন নাহার রেনুঃ

আকাশ দেখি দু চোখ মেলে
পাখির মতো উড়তে চাই,
আসবে কবে সেই দিনটি
শুনবো কোনো বাঁধা নাই —

প্রকৃতির নিষ্ঠুর খেলায় থমকে গেছে বিশ্ব, আমরা থমকে গেছি অবরুদ্ধ জীবনের কাছে, তবুও বেলকনিতে দাঁড়িয়ে উড়ে যাওয়া পাখির আকাশে মিলিয়ে যাওয়া দেখে বুকের ভেতর নতুন স্বপ্ন জাগে, আমরাও হয়তো এভাবেই ফিরে পাবো বাঁধাহীন চলার গতি।
বন্দি সময়ে দৈনন্দিন জীবনে এসেছে পরিবর্তন,যদিও ইচ্ছে ছিলো মেয়ের এক্সাম শেষে ঘুরে বেড়াবো ইচ্ছে মতো , সাহিত্য আড্ডায় মেতে উঠবো, শখের কেনাকাটা সহ জমিয়ে রাখা সব পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটাবো,প্রকৃতি যেনো সব কিছুতে বাঁধ সেধে বন্দি করে দিলো চার দেয়ালে, তাতে কি তবুও সময় কে উপভোগ্য করে তোলার চেষ্টা নিজের মতো করে, গল্পের বই পড়া, সেলাই করা, ছবি আঁকা, রান্না করা, শব্জির বাগান পরিচর্যা, ঘর গোছানো, মেয়েকে সময় দেয়া, দৈনন্দিন প্রার্থনা (পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া মেয়েকে সাথে নিয়ে), ফেসবুকে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, টিভি দেখা, প্রিয় বিষয়, -লেখালেখি চলছে এরই মাঝে।
কতজন হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃতির করাল গ্রাসে, তব্ওু জীবন থেমে থাকছে না, জানি না এর শেষ কোথায়,প্রকৃতির এই অদৃশ্য শক্তির সাথে যুদ্ধ করতে বিজ্ঞানের নতুন কোনো আবিস্কার অবশ্যই আমাদের সুন্দর পৃথিবী উপহার দেবে এই স্বপ্ন বুকের ভেতর জিইয়ে রেখে কাটছে দিন —

গৃহবন্দী জীবন – বন্দীজীবন কারো কাম্য নয়, তবুও পৃথিবীর আজ সবারই একই দশা করোনা ভাইরাসের কারণে।নিজেকে ভালো রাখার জন্য যে যার মতো করে সময় অতিবাহিত করছে। ছাদ বাগানের পরিচর্যা করে কাটছে, -এছাড়া আমি প্রশান্তি পেয়েছি কোরআন শরিফ পড়ে/ ওযু করেও পরিস্কার থাকা যায়,যা বার বার হাত ধোওয়ার কথা বলছে/ গল্পের বই, নিজেই কবিতা ,প্রবন্ধ,গল্প লেখা, রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা/ কলকাতায় নীলপালক নামে পত্রিকায় বাংলাদেশের বৈশাখ সম্পর্কে প্রবন্ধ চেয়েছিল তা লিখেছি। রোযাও থাকি আমি, /আর হাতের কাছে নেট তো আছেই/মোবাইলে আর ভিডিও কলে চলছে জমপেশ আড্ডা/পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি তবে লেবু ছাড়াও আমলকি, টমেটো যেকোন টক ফলে ভিটামিন সি আছে/ ঘরেই হাটাহাটি চলছে/ এভাবে কি করে যে দিন কেটে যাচ্ছে তা ভাবতেই অবাক লাগছে/ যারা বাহিরে কর্ম করে তাঁরা সবাই আমার মতোই সময়টা উপভোগ করছে/এছাড়া অনলাইন পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন,কিশোর বাতায়ন, আর মুক্তপাঠ এসব এ যোগ দিলেই বুঝবেন কি বিশাল জগত। আপনিও খুঁজে নিন পছন্দ মতো উপায় যা দিয়ে আপনার বন্দী জীবন উপভোগ্য হয় , তা না হলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন/মুক্তপাঠ অনলাইনে ঈঙঠওঞ-১৯ বিষয়ক কোর্স করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছি, এছাড়া বেসিক টিচার্স ট্রেনিং কোর্স (ইঞঞ) করেও সার্টিফিকেট অর্জন করেছি ।আর আমার বাবা মীর আনিসুল হক পেয়ারা ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে অসুস্থ তাঁকে নিয়েই বেশ সময় কেটে যাচ্ছে। আমি একজন শিক্ষক তাই রংপুর জিলা স্কুল”অন লাইন ক্লাস রুমে” ক্লাস নিচ্ছি নিয়মিত। ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি।এই হলো সাহিনা সুলতানার বন্দীঘরে যাপিত জীবন/

কবি ও শিক্ষক শাহিনা সুলতানাঃ
বন্দীজীবন কারো কাম্য নয়, তবুও পৃথিবীর আজ সবারই একই দশা করোনা ভাইরাসের কারণে।নিজেকে ভালো রাখার জন্য যে যার মতো করে সময় অতিবাহিত করছে। ছাদ বাগানের পরিচর্যা করে কাটছে, -এছাড়া আমি প্রশান্তি পেয়েছি কোরআন শরিফ পড়ে/ ওযু করেও পরিস্কার থাকা যায়,যা বার বার হাত ধোওয়ার কথা বলছে/ গল্পের বই, নিজেই কবিতা ,প্রবন্ধ,গল্প লেখা, রবীন্দ্র সঙ্গীত শোনা/ কলকাতায় নীলপালক নামে পত্রিকায় বাংলাদেশের বৈশাখ সম্পর্কে প্রবন্ধ চেয়েছিল তা লিখেছি। রোযাও থাকি আমি, /আর হাতের কাছে নেট তো আছেই/মোবাইলে আর ভিডিও কলে চলছে জমপেশ আড্ডা/পুষ্টিকর খাবার খাচ্ছি তবে লেবু ছাড়াও আমলকি, টমেটো যেকোন টক ফলে ভিটামিন সি আছে/ ঘরেই হাটাহাটি চলছে/ এভাবে কি করে যে দিন কেটে যাচ্ছে তা ভাবতেই অবাক লাগছে/ যারা বাহিরে কর্ম করে তাঁরা সবাই আমার মতোই সময়টা উপভোগ করছে/এছাড়া অনলাইন পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন,কিশোর বাতায়ন, আর মুক্তপাঠ এসব এ যোগ দিলেই বুঝবেন কি বিশাল জগত। আপনিও খুঁজে নিন পছন্দ মতো উপায় যা দিয়ে আপনার বন্দী জীবন উপভোগ্য হয়, তা না হলে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন/মুক্তপাঠ অনলাইনে ঈঙঠওঞ-১৯ বিষয়ক কোর্স করে সার্টিফিকেট অর্জন করেছি, এছাড়া বেসিক টিচার্স ট্রেনিং কোর্স (ইঞঞ) করেও সার্টিফিকেট অর্জন করেছি ।আর আমার বাবা মীর আনিসুল হক পেয়ারা ভাষাসৈনিক ও মুক্তিযোদ্ধা বর্তমানে অসুস্থ তাঁকে নিয়েই বেশ সময় কেটে যাচ্ছে। আমি একজন শিক্ষক তাই রংপুর জিলা স্কুল”অন লাইন ক্লাস রুমে” ক্লাস নিচ্ছি নিয়মিত। ঘরে থাকি, সুস্থ থাকি।এই হলো সাহিনা সুলতানার বন্দীঘরে যাপিত জীবন/

কবি ও ছড়াকার নাজিরা পারভীনঃ
করোনার ভয়ে কাজের মেয়েকে বিদায় করে দেয়ায় শহরের বাসায় একরকম অচল হয়ে পড়ি। বাধ্য হয়ে শহরের বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে ঠাঁই গেড়েছি। গ্রামের বাড়ি হলেও শহুরে সব সুবিধাই এখানে বিদ্যমান। জা, ভাতিজা, ভাতিজা বউ এদের আদরে গ্রামে ছেলে, বৌমা, বরসহ বেশ আরামে আছি। গ্রামের শান্ত খোলামেলা পরিবেশ চমৎকার উপভোগ করছি। সব্জি ক্ষেত থেকে টাটকা শাকসবজি তুলছি, পুকুরের মাছ তুলে খাচ্ছি। বাইরে বের হইনা। বর মাঝেমধ্যে হারমোনিয়ামে সুর তোলে। অখন্ড অবসরকে তখন মুখর মনে হয়। পুলকিত হই।

প্রতিদিন অনেক বেলা করে ঘুম থেকে উঠি। রমজান মাস। নিয়মিত তারাবীহ্সহ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছি। ইফতার আয়োজন করছি। প্রতিদিন গ্রামের দশ পনেরোটি বাড়িতে দশ পনেরো প্লেট ইফতার পাঠানোর ব্যবস্থা করছি। এতকিছুর মাঝেও যখন টিভিতে করোনার ভয়াবহতার খবর শুনি তখন মনটা বিষন্নতায় ভরে ওঠে। আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। কবে অবস্থা স্বাভাবিক হবে? কবে ফিরে যাব সেই প্রিয় শহরের গা সওয়া কোলাহলে, প্রিয় সাহিত্য আড্ডায়।

মা ছোটবোনসহ বগুড়ায় থাকেন। অবরুদ্ধ। অনেকদিন ওদের কাছে যাওয়া হয়নি। ভীষণ কাছে পেতে ইচ্ছে করে। ফোনে কথা হয়। চাপাকষ্ট মনকে আবেগাপ্লুত করে তোলে। আশায় থাকি, একদিন সব স্বাভাবিক হবে। পৃথিবীর নির্মল বাতাসে মুক্ত হয়ে সবাই আবার বুকভরে শ্বাস নিবেন। আমার ছোট বোনটা আমাকে জড়িয়ে ধরে আবদারের সুরে বলবে “দিদি চলোনা, চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চিকেন ফ্রাই খেয়ে আসি।”

কবি ও গল্পকার মনিরা পারভীন পপিঃ
সব স্বাধীনতা সব সময় কল্যাণ কর নয়। অবসর তখনি আনন্দমুখর হয় যখন ব্যাস্ততার কাছে তা পাওয়া যায়। কয়েক ঘন্টা ক্লাস শেষে ছুটির ঘন্টা শিক্ষার্থীদের যে আনন্দ দেয় তা সেই চার দেয়ালে বন্দী থাকে বলেই। এই করোনা মহামারী কালীন সময় গুলো মানুষের জীবনে নতুন বোধের জন্ম দিয়েছে। আমিও পেয়েছি নতুন করে জানার, বোঝার,কিছু করার একটা মোক্ষম সুযোগ। ভাবনা,উদ্বেগ, উৎকন্ঠার মাঝে থেমে থাকেনা প্রতিদিনের জীবন চলার নূন্যতম কিছু চাহিদা। পৃথিবীর মানুষ, প্রকৃতি, জীবন যাত্রা আজকাল ভাবনার বিরাট অংশ জুড়ে আছে।
থেমে যেতে হয় অবুঝ শিশুর প্রশ্নের মুখে। আম্মু, কবে স্কুল খুলবে? কবে করোনা চলে যাবে? কবে বাইরে যেতে পারব? করোনার ঔষধ বের হয়েছে? আশ্বাসের জায়গা থেকে বলে যেতে হয় সব কিছু। শিশু মনের আনন্দ দিতে নিত্য নতুন খেলায় মেতে উঠি। বন্দীর যন্ত্রণা বলতে না পারলেও বয়ে বেড়াতে হচ্ছে তাকেও। অবুঝ শিশুর মুখে শুনি,আসুন আমরা আতংকিত না হয়ে সচেতন হই। বিশ সেকেন্ড হাত ধুই, দুরত্ব বজায় রাখি। করোনার দোয়াও পড়তে শুনি। রোজ আইইডিসিআর এর লাইভ পোগ্রামের সময় তার জানা। জানতে চায়, মিরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা আসেনা কেন? কত জন করোনা রোগী হল? কত জন মারা গেলো? কতটুকু বুঝে আসে তার জানিনা, তবে শুনে বলে, এত আম্মু!!
বিদ্যালয়ের সেই ফুলগুলোর জন্য বড্ড কষ্ট হয়। তাদের হাসি, কথা,ভালোবাসা,দুষ্টুমিতে মুখরিত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ, ক্লাসরুম, মাঠ আজ নিরব,নিস্তব্ধ। শূন্যতার কষ্ট নিয়ে প্রত্যাশা বেঁচে থাকুক সবাই, সুস্থ থাকুক। জীবন থাকলে সব পাওয়া যাবে। জীবনের চেয়ে মূল্যবান কিছু নেই।

বন্ধুদের হাতেও এখন অজস্র সময়। অবসরের ভারে নুয়ে পড়েছে সবাই। মেয়েদের সেই সুযোগ বোধ হয় ততটা নয়। রসিকতা করে অনেককেই বলি আমি তো বাপের জন্মে এত কাজ করিনি। এটা স্বপ্নেও ভাবিনি। যা হোক আড্ডা ডিজিটাল হয়ে গেছে। এর সুবাধে দূরে থেকেও ভিডিও কলে কিছুটা স্বস্তি মেলে।আর শুভাকাঙ্ক্ষী মানুষগুলো বাঁচার এক শক্তি। তাদের প্রেরণায় লিখার আনন্দে হয়ে থাকি মশগুল। কাগজ, কলম দুই বন্ধু নিত্য সাথি হয়ে উঠেছে। ফেসবুক বন্ধুদের নানা ভাবনা, আর ছোট ছোট গল্প কথা অবসরের সঙ্গীও বটে। অতীত, বর্তমান আর ভবিষ্যতের চিত্র রঙ মাখায় মনে। রঙ হারিয়ে, রঙ ছড়িয়ে জীবন বোধের প্রকাশ।

কিছু পেতে হলে কিছু হারাতে হয়। নতুন পৃথিবী অপেক্ষা করছে। সেই নতুনের মাঝে বেঁচে থাক আগামী প্রজন্ম নব উদ্যমে, নব চেতনায়,নব অঙ্গীকারে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com