রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ভরসার কেন্দ্র বিন্দু হয়ে উঠছে পীরগঞ্জ প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র ডিজিটাল বাংলাদেশের রুপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা : ডেপুটি স্পীকার অন্নদানগর তরুন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফ্রী ব্লাড ক্যাম্পেইন ও আলোচানা সভা বর্তমান সরকারের আমলে কৃষি পণ্যের দাম পেয়ে কৃষক লাভবান হয়েছে : রসিক মেয়র মোস্তফা সৈয়দপুরে পশু খাদ্যের চরম সংকট এক সপ্তাহেই খড়ের দাম তিনগুন বৃদ্ধি ডিমলায় আশ্বিনি বন্যায় ৬ হাজার পরিবার পানিবন্দি লালমনিরহাটে ট্রেন-ট্রাকের সংঘর্ষ, চালকসহ আহত ৮ চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদে বালু উত্তোলন বন্ধের তাগিদ দিলেন – পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী তারাগঞ্জে দুই ইউপিতে ২০ অক্টোবর উপনির্বাচন জমে উঠেছে প্রচার প্রচারনা পঞ্চগড়ে টানা বর্ষণে শীতকালীন শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি




দিনাজপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘুড়ির কারিগর

দিনাজপুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন ঘুড়ির কারিগর

ইদ্রিস আলী, দিনাজপুর :
প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস বাঙালিকে কয়েকটি প্রাণের উৎসব থেকে বঞ্চিত করলেও মজার খেলা ‘ঘুড়ি ওড়ানো’ থেকে বঞ্চিত করতে পারেনি। বরং লকডাউন থাকায় শিশু ও যুবকদের পাশাপাশি বিভিন্ন বয়সের কর্মহীন লোকজনও এই ঘুড়ি ওড়ানোয় মেতে উঠছে। বিকেল হলেই সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। আকাশের দিকে তাকালেই দেখা যায় বিভিন্ন রং এর ঘুড়ি উড়ছে। এমন চিত্র এখন দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকা ও পাড়া মহল্লায়।
কেউ নিজ এলাকার ফাকা জায়গায়, কেউ নিজ বাড়ির ছাদ থেকে ঘুড়ি উড়াচ্ছে। কেউ আবার অজানা কারো সাথে ঘুড়ি কাটাকাটির প্রতিযোগিতা করছে। আর এই ঘুড়ির চাহিদা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় এবং লকডাউনে ঠিকমত উপকরণ না মেলায় ঘুড়ি তৈরিতেও কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে কারিগরদের। দিনাজপুরে সপ্তাহখানিক আগে শুরু হয় ঘুড়ি ওড়ানো। তখন একটি ঘুড়ি বিক্রি হতো ৫ টাকায়। পরে তা বেড়ে ৭ টাকা এবং বর্তমানে একটি ঘুড়ি বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকায়।
দিনাজপুর জেলায় লোকডাউন থাকায় শহরের পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা হঠাৎপাড়া এলাকার নিজ বাড়িতেই ঘুড়ি তৈরি করে ব্যস্ত সময় পার করছেন (কাঞ্চন ব্রীজ সংলগ্ন) রংবেরং নামে দোকানের সত্বাধিকারি মো. কাশেম। পেশায় তিনি একজন চিত্রশিল্পী হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার তেমন কাজ না থাকায় তিনি নিজ বাড়িতেই ঘুড়ি তৈরি করছেন। গতকাল তার বাড়িতে এমন চিত্র দেখা যায়। তিনি জানান, ঘুড়ির চাহিদা এত বেশি যে, আমি ঘুড়ি তৈরি করে সামাল দিতে পারছি না। একের পর একজন এসে কেউ ৫টা, কেউ ১০ টা করে ঘুড়ি চাইছে। চাহিদা বাড়ায় ঘুড়ি তৈরিতে আমার সাথে যোগ দিয়েছে স্ত্রী-সন্তানও। তিনি বলেন, পাতলা কাগজের সাথে চিকন কঞ্চি লাগিয়ে সাধারণত ঘুড়ি তৈরি করা হয়। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের এবং বিভিন্ন উপাদান ও নকশার ঘুড়ি রয়েছে। বর্তমানে সব কিছুর দাম বাড়ায় একটি ঘুড়ি বিক্রি করছি ১০ টাকায়। তিনি জানান, একটি ঘুড়ি তৈরি করতে তার সময় লাগে প্রায় ৪ থেকে ৫ মিনিট।
হঠাৎপাড়া এলাকার মো. রুবেল, বাসুনিয়াপট্টিস্থ চকবাজার এলাকার গোপাল জানান, ঘুড়ি ওড়ানোটা নেশা না হলেও বর্তমান করোনার কারণে কর্মহীন হয়ে বেকার না ঘুরে ঘুড়ি উড়িয়ে সময় কাটাচ্ছি। বিকেলটা অনেক আনন্দের কেটে যাচ্ছে। পাশাপাশি আকাশে অজানা কারো সাথে ঘুড়ি লড়াই করছি। এটি এক অন্যরকম অনুভুতি।
প্রানঘাতী করোনার প্রাদুর্ভাব কেটে একদিন আবার স্বাভাবিক হবে বাংলাদেশ, স্বাভাবিক হবে দিনাজপুরবাসী। আবার স্বাভাবিক ভাবে মনের আনন্দে মেতে উঠবে শিশু, যুবকরা এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com