মঙ্গলবার, ১৪ Jul ২০২০, ০৯:৫৭ পূর্বাহ্ন




পীরগঞ্জের নুনদহ ঘাট সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় লাখো মানুষের মাঝে স্বস্তি

পীরগঞ্জের নুনদহ ঘাট সেতু দৃশ্যমান হওয়ায় লাখো মানুষের মাঝে স্বস্তি

শাহ্ মোঃ রেজাউল করিম, পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি :
রংপুরের ও দিনাজপুর সীমানায় পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট উপজেলা দিয়ে বয়ে চলা করতোয়া নদীর নুনদহ ঘাটে প্রায় ২৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। পীরগঞ্জ উপজেলা চতরা ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল গিলাবাড়ী নামক স্থানে করতোয়া নদীর ওপর নির্মানাধীন এ অঞ্চলের মানুষের প্রতিক্ষিত নুনদহ ঘাট ব্রীজ দৃশ্যমান হওয়ায় দু’ উপজেলার লাখো-লাখো মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৩০১ মিটার দৈর্ঘ্য, ৯ দশমিক ৮ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মানের জন্য পিপিএলকিউসিজেভি নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ করছে। সেতুটিতে ৭৬ টি পাইল, গার্ডার ২৮ টি, ও ৭টি স্প্যান হবে বলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জানায়। গত সোমবার ৪ ফেব্রæয়ারী প্রথম স্প্যানের কাজ প্রথম দৃশ্যমান হয়। ব্রীজটি নির্মান হলে রংপুর এবং দিনজপুর জেলার পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট উপজেলার মাঝে সেতুবন্ধনের সৃষ্টি হবে। দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দর হয়ে পন্য পরিবহনে গুরুত্বপূর্ন ভুমিকা পালন করবে এই সেতুটি। পল্লী সড়কে গুরুত্বপুর্ণ সেতু নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ ব্রীজটি নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে এ কাজের তদারকি করছে। চতরা ইউপি সদস্য নূর মোহম্মদ গোল্লা জানান- এ ব্রীজ নির্মান হলে পীরগঞ্জ ও হিলি স্থল বন্দরের দুরুত্ব কমে আসবে ব্যবসা বানিজ্য আরও বেগবান হবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার সিংড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মান্নান মিয়া বলেন- ঘোড়াঘাট থেকে বিভাগীয় শহর রংপুরের দুরুত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে। ঘোড়াঘাট উপজেলার ওসমানপুর ইউনিয়নের স্থায়ী বসিন্দারা জানান- বুলাকিপুর, রানীগঞ্জহাট, ডুগডুগির হাট, বলগাড়ী এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘব হবে। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। বুলাকিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান লাবলু জানান- স্বাস্থ্য সেবার জন্য অভূতপূর্ব সাফল্য আসবে বুলাকিপুর থেকে দিনাজপুরের দুরুত্ব প্রায় ১০০ কিঃ মিঃ সেখান রংপুরের দুরুত্ব ৭০ কিঃ মিঃ, পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট- হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থল বন্দরের যোগাযোগ ব্যবস্থাও সহজ হবে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলি নাসিম মাহমুদ জানান- চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নির্মাণ কাজ সমাপ্তির মেয়াদকাল রয়েছে। দ্রæতগতিতে কাজ চলমান থাকায় নির্ধারিত মেয়াদকালের মধ্যেই এ সেতু দিয়ে জনসাধারণ চলাচলে উম্মুক্ত হবে আশা করছি। আবহাওয়া প্রতিকুলে গিয়ে নদীর পানি বিপদ সীমার উপরে উঠে গেলে সেক্ষেত্রে নির্মাণ কাজে বাধা আসলে নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত কাজ সমাপ্তিতে অপেক্ষা করতে হতে পারে। পীরগঞ্জের চতরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন জানান- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রংপুরের বধুমাতা জননেত্রী শেখ হাসিনা দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার জনসাধারণের দীর্ঘদিনের দাবী পুরণসহ ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবে। পাশাপাশি এ অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ব্যবসা বানিজ্যে উন্নতিতে প্রভাব পড়বে। এলাকার কৃষকদের কৃষিজাতপণ্য সহজে পরিবহনের ফলে নিকটতম হাট-বাজারে বিক্রিতে ন্যায্যমুল্য নিশ্চিত হবে। উপজেলা প্রকৌশলি নুরুল ইসলাম জানান, নুনদহ ঘাটে করতোয়া নদীর উপরে ৩০১ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতু নির্মানের নিমার্ণ কাজ দ্রæত গতিতে এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে সেতুটির ৬০ শতাংশ কাজ দৃশ্যমানের আওতায় এসেছে এবং পীরগঞ্জ সীমানায় ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার সংযোগ সড়কের উন্নয়নের কাজও এগিয়ে চলছে। ঘোড়াঘাট উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম বলেন- সেতুটি নির্মিত হলে পীরগঞ্জ-ঘোড়াঘাট উপজেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপন্য বাজারজাত করনে সহজতর হবে সমৃদ্ধ হবে অর্থনৈতিক অবস্থা। পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার টি এম এ মমিন জানান- সেতুটির কাজ সম্পন্ন হলে কৃষিসহ সকল ক্ষেত্রে যুগন্তকারী উন্নতি সাধিত হবে। দু-জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত আত্বীয়তা ও ব্যবসায়িক কাজের পারস্পারিক নুনদহঘাট পারাপারে কষ্ট লাঘব হবে এবং যোগাযোগ সহজ হবে। সেই সাথে রংপুর-দিনাজপুরের অঞ্চলের প্রায় ৫ লক্ষাধিক মানুষ উপকৃত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com