মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৮:১৭ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত জলঢাকায় জরাজীর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বেহাল অবস্থা আটোয়ারীতে মাছের ভাসমান খাদ্য তৈরীর মেশিন বিতরণ গোবিন্দগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের উন্নয়নে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত অক্টোবর-নভেম্বরে বাড়তে পারে করোনা সংক্রমণ রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তফার সাথে কর্মচারী ইউনিয়নের উপদেষ্ঠা এবং এডহক কমিটির নেতৃবৃন্দের শুভেচ্ছা বিনিময় হিলিতে আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত রংপুরে সিটি এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের উদ্বোধন নীলফামারী উপজেলা আ’লীগের সভাপতি আবুজার রহমানের ওপর হামলা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নিক্সন গ্রেফতার পঞ্চগড়সহ সাংবাদিকদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মানববন্ধন




উলিপুরের ঐতিহ্যবাহী দলদলিয়ার ইতি কথা ও নামকরন

উলিপুরের ঐতিহ্যবাহী দলদলিয়ার ইতি কথা ও নামকরন

ফয়জার রহমান রানু, উলিপুর (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রাম জেলার বৃহত্তম উপজেলা উলিপুর। ১৪’টি ইউনিয়ন নিেিয় গঠিত এই উপজেলার দলদলিয়া ইউনিয়ন একটি ঐতিহ্যবাহী এবং বর্ধিষ্ণু অঞ্চল। ঐতিহ্যবাহী দলদলিয়া ইউনিয়নটি উলিপুর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রায় ৮’ কিঃমিঃ পশ্চিমে তিস্তা নদীর প্রান্ত ঘেঁষে দাড়িয়ে আছে। ৫৫৭৩ বর্গ একর এলাকা ব্যাপি এ অঞ্চলের অধিকাংশ বসত-বাড়ি, জমি-জমা তিস্তা নদীর করাল গ্রাসে উলিপুর উপজেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। বর্তমানে এই ইউনিয়নে ৬’টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৮’টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৭’টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৫’টি মাদ্রাসা, ১’টি উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ৬টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিণ্ঠান রয়েছে। উল্লেখ্য যে, বৃটিশ সাশনামলে ইংরেজ সাহেবদের দৌরাত্ব, শোষন, জুলুম-নির্যাতনের ভারত বর্ষের অন্যান্য এলাকাগুলোর মধ্যে এ জনপদও অন্যতম। যার বাস্তব উদাহাণ হিসাবে অত্রালাকার দক্ষিন-পশ্চিমাংশটি এখনো “সাহেবের কুঠি” নাম বহন করে আসছে। এখানে আরো বেশ কয়েকটি কুঠি রয়েছে যাতে তদানিন্তন সময় সাহেবেরা নীল চাষ করাতো। তখনকার সময় এ অঞ্চলে ঐশ্বর্য্যপূর্ন ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের বসবাস বেশী ছিলো। বৃটিশ প্রদত্ত ওই সব সাহেবের আগমনে তাদের ধন-মাল,সোনা-গহনা অনেকটাই লুণ্ঠিত হয় এবং শুরু হয় তাদের উপর অমানবিক অত্যাচার। প্রাণ রক্ষার্থে অনেকেই তখন তাদের গুচ্ছিত অর্থ-সম্পদ, সাহেরদের হাতে জমাদেয়। আবার কেউ কেউ জমা না দিয়ে মাটিতে পুতে রাখে। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, ঐ সকল পুতে রাখা অর্থ-করি গুপ্তধন হিসেবে এলাকাবাসী এখনো মাটি খুরতেই অপ্রত্যাশিত ভাবে পেয়ে থাকে। সেই সাথে অট্রালিকা, পাথর গম্বুজের ধ্বংসাবশেষও তাদের দৃষ্টিগোচর হয়।
তখনকার সমাজে অত্যন্ত গর্হিতের বিষয় যা ছিলো তা হলো এলাকার সুন্দরী যুবতী নারীদের নিয়ে সাহেবদের ছিলো রং তামাশা ও বিনোদনমুলক উৎসবের আয়োজন। আর সাহেবদের এহেন কার্মকান্ডের যোগানদাতা স্থানীয় কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহলের অত্যাচারে নিরীহ শান্তিকামী, সরলমনা গ্রামবাসীগণ প্রতিবাদ জানাতে পারেনি বরং মুখচেপে সর্বদাই সাহেব সেবায় ব্যস্ত থাকতো। তাদের ছিলোনা স্বাধীনতা, ছিলোনা শিক্ষা, ক্ষুধা-তৃষ্ণা হনন করে নিয়েছিলো সাহেবে নীল চাষাবাদের মাধ্যমে। তাইতো নিপীড়িত এই জনগুষ্ঠির হাঁ-হাঁ কারের শব্দস্পর্শে কালক্রমে এ অঞ্চলের মাটিতে অনেক প্রখ্যাত ক্ষাজমা ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষের জন্ম হয়েছে। সে সব মহৎ প্রাণদের মধ্যে অন্যতম স্বর্গীয় বৃন্দাবন সরকার , প্রয়াত আব্দুল জব্বার ব্যাপারী (ওরফে কাছুয়া ব্যাপারী) ,অত্র ইউনিয়নের প্রমথ প্রেজিডেন্ট গুরুচরনদেব সরকার ,দ্বিতীয় প্রেজিডেন্ট অব্দুল করিম মুন্সী, সাফাতুল্যা ব্যাপারী, প্রেজিডেন্ট আব্দুল হালিম, ছপোর উদ্দিন বসুনিয়া, আলহাজ মফিজ উদ্দিন সরদার, মরহুম সোলাইমান উদ্দিন সরকার , বিশিষ্ট ইসলামী সাহিত্যিক আঃ জব্বার রব্বানী (যাঁর রচনা গুলির মধ্যে অন্যতম‘অগ্নিবান ও গুমর ফাঁক’), প্রথম পন্ডিত বদিয়তুল্যা, চন্দ্রনাথ পন্ডিত, রামেন্দ্র, কামেন্দ্র ভট্রাচার্য্য ও এর পরে প্রখ্যাত ব্যক্তি আহাম্মদ আলী পন্ডিত (যিঁনি খ্যার খ্যেরু নামে পরিচিত ছিলেন) এবং আরো নাম নাজানা অনেক প্রখ্যাত ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব হয়েছিল,যাঁরা সামাজিক আন্দোলন ও বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহন করেছিলেন।
মানুষ মরে কিন্তুু,তাদের কৃতী রয়ে যায়। তেমনি ওই সমস্ত ব্যক্তিত্বে অমর কাহিনী আজও গল্পের আসরে মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। তেমনি ভাবে ৭০ দশকে এই নদী উপকণ্ঠের নিভৃত পল্লী“রতিদেব” নামক জায়গায় যিনি আবির্ভূত হয়েছেন তার নাম উচ্চারন না করলে নয়। তিনি হলেন কিংবদন্তীর নায়ক ৭১’র রনাঙ্গনের অকুতভয় ও স্কবাধীনতা সংগ্রামের সময় উলিপুর উপজেলার প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তলনকারী হিসাবে দাবিদার বীর সৈনিক সরকার ইসহাক আলী। কেবল মাত্র দলদলিয়াকে গর্বিত করে না, বরং বৃহত্তর রংপুর জেলার আপামর জনগনের অকৃত্রিম বন্ধু ও কৃতি সন্তান হিসেবে তাদের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
নামকরনঃ- দলদলিয়া ইউনিয়নের নামকরন প্রসংগে দৃই ধরনের কাহিনী রয়েছে। বুদ্ধিজীবি মহল ও পুরনো লোকদের মতে বিভিন্ন মহৎ প্রাণ ব্যক্তিত্বের দলাদলির কারণে এলাকার নামকরন হয়েছে “দলদলিয়া”। তবে, অত্র এলাকার বেশীরভাগ জ্ঞানী-গুনী ও বর্ষীয়ান লোক জানিয়েছেন , তাদের পূর্ব শুরীগণ অত্যন্ত শান্তিপ্রিয় ছিলেন। তারা কোন প্রকার বিরোধপূর্ন কর্মকান্ডে লিপ্ত হতেন না। বরং আজ থেকে কয়েক শত বছর পূর্বে এ অঞ্চলটি বনাঞ্চল ও গভীর অরন্যে পরিপূর্ন ছিল। অন্ধকার সেই যুগে মানুষ সভ্যতার আলো থেকে দূরে ছিল। তাদের দৈনন্দিন জীবন-যাত্রা ছিল সাদামাটা। ধর্ম, সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং শিক্ষা থেকে তারা ছিল বঞ্চিত।
ধর্ম শিক্ষার জন্য কোন ধর্মগুরু তখন পর্যন্ত এখানে পৌছেনি যে কারণে, সামাজিক এই অস্থিরতা ও ধর্মীয় সন্ধিক্ষনে সুদূর মধ্যপ্রাচ্য থেকে আকাশের উদারতা, স্বর্গীয় দ্বীপ্তি ও শান্তির সুুষমালয়ে মহান ইসলামের ঝান্ডা হাতে নিয়ে যিনি অবতরন করলেন তিনি হলেন মহান ব্যক্তিত্ব, মহাপুরুষ হযরত দলদলিয়া রহমতুল্ল্যা। এই মহান ব্যক্তি আশ্রয় গ্রহন করলেন প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব স্বর্গীয় গুরুচরনদেব সরকারের বাড়ির পার্শ্বে মরহুম সোলাইমান সরকারের উঠান সংলগ্ন দক্ষিন-পূর্বে বাঁশঝাড়ের ভিতর অযতেœ. অবহেলিত অবস্থায় এই প্রবাদ পুরুষ হযরত দলদলিয়া (রঃ) এর দীর্ঘ লম্বিত একটি মাজার কালের স্বাক্ষী হিসেবে দেখতে পাওয়া যায়।
জনশ্রæতি আছে যে, এই কামেল ব্যক্তিত্ব হযরত দলদলিয়া (রঃ) এর বিরুদ্ধে যারা সমালোচনায় মজগুল হতেন তারা নাকি সাথে সাথেই দল-দল করে কাঁপতেন। বংশ পরম্পরায় এই গল্পকাহিনী থেকেই “দলদলিয়া’ নামের উৎপত্তি।

নিউজটি শেয়ার করুন







© All rights reserved © uttorersomoy.com
Design BY NewsMoon.Com